খুব শিগগিরই উপজেলা নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে—সরকারের এমন ঘোষণার পর বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বলা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির মাঠ এখন বেশ সরগরম। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা এবং সাধারণ ভোটারদের জল্পনা-কল্পনায় নতুন নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে।
এই নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই স্থানীয় রাজনীতি ও জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বহুল পরিচিত সমাজসেবী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ জসিম উদ্দিন সেলিম। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী তাঁকে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করেন, বিশ্বনাথ উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে জসিম উদ্দিন সেলিমের মতো একজন যোগ্য, সৎ ও দূরদর্শী ব্যক্তিই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সবচেয়ে উপযুক্ত। তাঁর সমর্থকদের মতে, তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সামাজিক অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক। সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই সম্ভাব্য প্রার্থী অত্যন্ত ভদ্র, অমায়িক ও মৃদুভাষী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর এই সদালাপী ব্যক্তিত্ব তাঁকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিও তাঁকে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে।
বিশ্বনাথ উপজেলার অনেক সচেতন নাগরিক মনে করেন, একজন উপজেলা চেয়ারম্যানকে হতে হয় জনবান্ধব ও প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন। তাঁদের মতে, জসিম উদ্দিন সেলিমের সেই সক্ষমতা রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে জড়াননি; বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা লালন করেছেন। তিনি একজন পরিশ্রমী রাজনৈতিক নেতা। এমন ইতিবাচক ভাবমূর্তির কারণে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি জনপ্রিয়। অনেক ভোটারের বিশ্বাস, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে বিশ্বনাথে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
উপজেলা নির্বাচনের সমীকরণে জনপ্রিয়তাই জয়ের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। মাঠপর্যায়ে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা থাকায় অনেকে মনে করছেন, তিনি যদি শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হন, তাহলে নির্বাচনে তাঁর ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূল থেকে তাঁর পক্ষে দাবি ওঠার অন্যতম কারণ হলো স্থানীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন এবং যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা। বর্তমান সময়ে অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সততা, স্বচ্ছতা ও জনপ্রিয়তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই বিবেচনায় জসিম উদ্দিন সেলিম অন্য অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
তৃণমূলের এই জোরালো দাবি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বনাথ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক উপজেলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। একই সঙ্গে বিএনপি তাঁকে দলীয় সমর্থন দেয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেকের ধারণা, তৃণমূলে তাঁর জনপ্রিয়তাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পথে এগিয়ে নিতে পারে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বক্তব্যও স্পষ্ট—তাঁরা এমন একজন প্রার্থী চান, যিনি জনগণের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন এবং উপজেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। তাঁদের মতে, জসিম উদ্দিন সেলিমের রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিগত আচরণ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে তাঁকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। তিনি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকেন, তাহলে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও জমজমাট হবে, এমন ধারণা এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত।