• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেত্রকোনায় সৌর বিদ্যুতের প্রসারে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান দেনমোহর পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকের আপোষনামা, চুক্তি অমান্যের অভিযোগ ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন রৌমারীতে গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ধর্মপাশায় নাসিম হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে ৯ আসামির নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গ্রিস বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা, সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বিষয়ে পাঁচবিবি পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের বক্তব্য বিশ্ব বাঘ দিবসে সুন্দরবনের অস্তিত্ব রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের আহ্বান

নেত্রকোনায় ভুয়া দলিলে নামজারি করেও উপজেলার শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজ

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

সোহেল খান দূর্জয়:

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান এবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে ভুয়া দলিলে জমির নামজারি করার অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থবছরের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই (সোমবার) তাকে সম্মাননা দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার। কিন্তু শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া দলিল দিয়ে নামজারি করার অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শাস্তি না দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা দেওয়ায় সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভ ও নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পদারকোনা মৌজায় ৭ জন জমির মালিকের ভুয়া দলিল ও সঠিক কাগজপত্র ছাড়াই মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে একটি নামজারি প্রস্তাব করেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান। সেই নামজারি ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল অনুমোদন করা হয়। যার নামজারি নম্বর ২৫-৬৪৩। ওই নামজারি দিয়ে জমি বিক্রি করে দেন মালিকরা। বিক্রি করা জমি গ্রহীতাদের নিকট দলিল করে দেওয়ার জন্য উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও দলিল লেখক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রহিছ মিয়ার যোগসাজশে আরেকটি ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়।

দলিলটি ২০২৬ সালের ২৫ জুন নিবন্ধনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল করার পর অসংগতির বিষয়টি সামনে আসে। পরে জাল দলিলসহ সকল প্রকার নথি জব্দ করেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান। ভুয়া দলিল রেজিস্ট্রেশন করার চেষ্টার অপরাধে দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়াসহ অনির্দিষ্টকালের জন্য অফিসের সকল কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

নিয়ম অনুযায়ী, নামজারি প্রস্তুতের আগে সকল ধরনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান উৎকোচের বিনিময়ে ভুয়া দলিল ও সঠিক কাগজপত্র ছাড়াই নামজারির প্রস্তাব দিয়ে দেন। এবং অফিস ম্যানেজ করে সঠিক কাগজপত্র ছাড়াই নামজারি করেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সামনে আসলেও শাস্তি না পেয়ে পেয়েছেন পুরস্কার। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় জনসাধারণ।

ভুয়া নামজারি বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি মাঘান ইউনিয়ন থেকে বদলি হয়ে ফতেপুর ইউনিয়নে কর্মরত আছি। সঠিক কাগজ দিয়েই তখন নামজারি প্রস্তাব করেছিলাম।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার জানান, ‘এ বিষয়ে সাব-রেজিস্টার অফিস থেকে আমাকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কীভাবে মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমানকে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কথা না বলার জন্য ইউএনও নিষেধ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীমের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন