যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি (সাবেক) কাউন্সিলর ইছমাইল উদ্দিন লিডস ইউনিভার্সিটি থেকে পলিটিক্স বিষয়ে সর্বোচ্চ সম্মানসহ ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
গত ২৪ জুলাই বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে ডিগ্রি তুলে দেয়।
ইছমাইল উদ্দিন ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশ্বনাথ পৌরসভার কারিকোনা গ্রামের বাসিন্দা, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড সিটির বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মো. জমির উদ্দিন এবং গৃহিণী আছমা খাতুনের জ্যেষ্ঠ পুত্র। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান।
শৈশব থেকেই মেধাবী ইছমাইলের নেতৃত্বগুণে মুগ্ধ হয়ে তাঁর সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাঁকে হ্যানসন একাডেমির ডেপুটি হেড বয় নির্বাচিত করেন। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ডিক্সনস সিক্সথ ফর্মের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি লিডস ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই ইছমাইল ব্র্যাডফোর্ডসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। মানবতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে তাঁর বক্তব্য ব্র্যাডফোর্ডসহ আশপাশের বিভিন্ন শহরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে, ২০২৪ সালে, যুক্তরাজ্যের মূলধারার একাধিক রাজনৈতিক দল তাঁকে সিটি অব ব্র্যাডফোর্ড মেট্রোপলিটন ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে তিনি কোনো দলীয় মনোনয়ন গ্রহণ না করে ব্র্যাডফোর্ড ইন্ডিপেনডেন্ট গ্রুপের প্রার্থী হিসেবে বোলিং অ্যান্ড বার্কারএন্ড ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোটে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
এর মাধ্যমে তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যের প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এবং সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তিনি ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে নির্বাচনী এলাকার মানুষের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেননি। কারণ, ব্রিটিশ সরকারের সিভিল সার্ভিসে পলিসি ও ডিপ্লোম্যাটিক-সংশ্লিষ্ট একটি মর্যাদাপূর্ণ পদে কাজ করার সুযোগ পান।
ইছমাইল উদ্দিনের মতো তাঁর ভাই-বোনেরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর বড় বোন একজন ইমিগ্রেশন আইনজীবী (ইমিগ্রেশন লইয়ার) এবং অপর দুই বোন চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নরত।
নিজের এই সাফল্যের জন্য ইছমাইল উদ্দিন তাঁর বাবা-মায়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে তাঁর বাবা, বিশ্বনাথের সাবেক ছাত্রনেতা ও যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড সিটির কমিউনিটি নেতা মো. জমির উদ্দিন বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে এমন একজন নেক সন্তান দান করেছেন। ইছমাইল যেন ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের মানুষের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে—সেজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।”