• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
গ্রিস বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা, সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বিষয়ে পাঁচবিবি পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের বক্তব্য বিশ্ব বাঘ দিবসে সুন্দরবনের অস্তিত্ব রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির পৃথক অভিযানে মাদকসহ তিনজন আটক জুলাই শহীদ স্মৃতি আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হবিগঞ্জে এনসিপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্মারকলিপি গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে চট্টগ্রামবাসী, প্রয়োজনের তুলনায় ৪৪ শতাংশ কম গ্যাস সরবরাহ, শিল্প-বিদ্যুৎ-আবাসিকে তীব্র সংকট রাজনৈতিক ছায়া নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার অভিযোগ নদীপথে ইয়াবা পাচারকালে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক উপমহাদেশের জনপ্রিয়, সুপরিচিত কবি ও কথাসাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প: “শ্রাবণ মেঘের ঘনঘটা”

উপমহাদেশের জনপ্রিয়, সুপরিচিত কবি ও কথাসাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প: “শ্রাবণ মেঘের ঘনঘটা”

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

শ্রাবণ মেঘের ঘনঘটা

—মাধুরী ব্যানার্জী

শ্রাবণের প্রথম বিকেল। আকাশজুড়ে কালো মেঘের রাজত্ব। দূরের তালগাছগুলো বারবার মাথা নুইয়ে জানিয়ে দিচ্ছে—আজ বৃষ্টি নামবেই। গ্রামের শেষ প্রান্তের ছোট্ট কাঁচা বাড়িটির বারান্দায় বসে ছিল মেঘলা। তার হাতে পুরোনো একটি ডায়েরি, যার প্রতিটি পাতায় জমে আছে কিছু না-পাঠানো চিঠি।

এই বাড়িতে একসময় হাসির শব্দ ছিল। বাবা ছিলেন গ্রামের স্কুলশিক্ষক, মা গান গাইতেন। কিন্তু সময়ের ঝড় সবকিছু বদলে দিয়েছে। বাবা চলে গেছেন বহু বছর আগে, আর মা গত শ্রাবণেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। তারপর থেকে শ্রাবণ মানেই মেঘলার কাছে বিষণ্নতার অন্য নাম।

হঠাৎ ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমে এল। টিনের চালের ওপর বৃষ্টির শব্দ যেন হাজারো অশ্রুর একসঙ্গে ঝরে পড়া। এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।

দেখল, ভিজে এক কিশোর দাঁড়িয়ে আছে। হাতে কয়েকটি বই।

—“দিদি, স্কুলের লাইব্রেরি থেকে এনেছি। মাস্টারমশাই বলেছিলেন, আপনি পড়তে ভালোবাসেন।”

মেঘলা বিস্মিত হলো। বাবার ছাত্রদের কেউ কেউ এখনও তাঁর কথা মনে রেখেছে! ছেলেটিকে ভেতরে ডেকে শুকনো কাপড় দিল, গরম চা বানিয়ে দিল। কথায় কথায় জানল, গ্রামের অনেক শিশুই বইয়ের অভাবে পড়তে পারে না।

সেদিন রাতেই মেঘলা সিদ্ধান্ত নিল। বাবার রেখে যাওয়া হাজারো বই ধুলোয় পড়ে থাকবে না। বাড়ির সামনের ঘরটিকেই বানিয়ে ফেলল ছোট্ট একটি পাঠাগার।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ঘর ভরে উঠল শিশুদের কোলাহলে। কেউ কবিতা পড়ে, কেউ গল্প শোনে, কেউ নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে। মেঘলা বুঝল—শোককে আঁকড়ে ধরে রাখলে জীবন থেমে যায়, কিন্তু তাকে মানুষের কল্যাণে রূপ দিলে সে আলো হয়ে ফিরে আসে।

পরের শ্রাবণে আবার মেঘ জমল। আবার বৃষ্টি নামল। কিন্তু এবার সেই বৃষ্টির শব্দ আর একাকিত্বের কান্না নয়; যেন শিশুদের হাসি, বইয়ের পাতার মৃদু উল্টে যাওয়া, আর নতুন স্বপ্নের সুর।

মেঘলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল, “শ্রাবণের মেঘ শুধু ঝড় আনে না, কখনও কখনও মানুষের হৃদয়ে নতুন ঋতুরও জন্ম দেয়।”

সেদিন গ্রামের মানুষ দেখেছিল—মেঘের ঘনঘটার আড়ালেও সূর্যের আলো লুকিয়ে থাকে। শুধু অপেক্ষা করতে জানতে হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন