মঙ্গলবার, ঠিক সকাল সাড়ে ১১টায় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সুরক্ষা মঞ্চের আহ্বানে শিয়ালদহ স্টেশন ও হাওড়া স্টেশনে জমায়েত হয়ে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ধর্মতলা পর্যন্ত মহামিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
যেভাবে বামপন্থী সংগঠন আয়োজিত ২৪শে জুলাইয়ের মহামিছিলে ছাত্র, যুব ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে, আমরা তার তীব্র ধিক্কার জানাই। আমরা এই চক্রান্ত ব্যর্থ করতেই আজকের এই মহামিছিলের আয়োজন করেছি।
এই মহামিছিলে প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মচারী পায়ে পা মিলিয়েছেন। আমরা তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। বিভিন্ন জেলা থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেছেন। এমনকি এবিভিপি ও এবিআরএসএম সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যুক্ত হয়েছিলেন। আমরা তাঁদের কাছেও কৃতজ্ঞ।
মিছিলের নামে যেভাবে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হয়েছে, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে কুৎসিতভাবে ব্যঙ্গ করে তাঁর ছবি পোস্টারে ব্যবহার করা হয়েছে, আমরা তার তীব্র ধিক্কার জানাই। শুধু এটুকুই বলতে চাই, এখন আর কেন্দ্রীয় সরকার শুধু দিল্লিতেই নয়, পশ্চিমবঙ্গেও দায়িত্ব পালন করছে। তাই শিক্ষার নামে বা শিক্ষাকে হাতিয়ার করে যদি কেউ অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। সময়ই তার জবাব দেবে।
আর যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং দূরে থেকে উসকানি দিচ্ছেন, তাঁদের কাউকেই প্রধানমন্ত্রী সহজে ছাড়বেন না। এমনকি আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও এ ঘটনার জবাব দেবেন এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করবেন। তাই দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা বন্ধ করুন। কর্তব্যরত সাংবাদিকদের হেনস্তা বন্ধ হোক। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের জঘন্যতম ঘটনা আর না ঘটে। যাঁরা আমাদের বার্তাগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেন, তাঁদের ‘গদি মিডিয়া’ বলে আক্রমণ করা হচ্ছে। আমরা বারবার এটি হতে দেব না। আজ শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও কর্মচারী ইউনিয়নের সবাই একত্রিত হয়ে এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছি।
আজকের মহামিছিলে ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং থেকে শুরু করে লেনিন মূর্তি ও রানি রাসমণি পর্যন্ত যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, পথচারীরাও সময়মতো যানবাহন ধরতে পারেননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল পরিচালনার জন্য সহযোগিতা করা হয়েছে। প্রত্যেকে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মহামিছিলে অংশগ্রহণ করেন এবং ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেন।