• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

যৌথ খতিয়ানে জমির কর দিতে নতুন সুযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট / ৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যৌথ মালিকানার খতিয়ানে থাকা জমির এক বা একাধিক মালিক এখন বণ্টননামার ভিত্তিতে পৃথক খতিয়ান করে নিজেদের অংশের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। এ জন্য আগে যৌথ খতিয়ানের পুরো জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হবে না।
যৌথ মালিকানার জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও হয়রানি কমাতে এ নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা এক পরিপত্রে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিকেএমপি অনুবিভাগের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, বর্তমানে যৌথ মালিকানার খতিয়ানের সম্পূর্ণ ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে খতিয়ানে থাকা কোনো একজন বা একাধিক মালিক তাঁদের নিজ নিজ হিস্যা অনুযায়ী আলাদাভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারেন না।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যৌথ খতিয়ানের সব মালিক ভূমি উন্নয়ন কর দিতে আগ্রহী না হলে একজন মালিকের পক্ষে পুরো খতিয়ানের কর পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে জমি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে না পেরে মালিকদের হয়রানির শিকার হতে হয়।
বণ্টননামা করলেই পৃথক খতিয়ান
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনিবার্য কারণে যৌথ খতিয়ানের সম্পূর্ণ ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে পরিশোধ করা সম্ভব না হলে কর পরিশোধ বা দাখিলা ছাড়াই রেজিস্টার্ড বণ্টননামা দলিল করা যাবে। আদালতের মাধ্যমেও বণ্টননামা সম্পাদন করা যাবে।
এর ভিত্তিতে যৌথ খতিয়ানের এক বা একাধিক মালিক ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করেই নিজেদের অংশের জন্য পৃথক খতিয়ান সৃজনের উদ্দেশ্যে নামজারির আবেদন করতে পারবেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মালিকানার সঠিকতা যাচাই করে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় বা দাখিলা ছাড়াই নামজারি আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।
পরে দিতে হবে বকেয়া কর
তবে পৃথক খতিয়ান সৃজনের পর সংশ্লিষ্ট মালিককে তাঁর হিস্যা অনুযায়ী পূর্বের যৌথ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন করের বকেয়া এবং হালদাবি, প্রযোজ্য হারে, পরিশোধ করে দাখিলা নিতে হবে।
অর্থাৎ, যৌথ খতিয়ানের পুরো জমির কর আগে পরিশোধ না করলেও বণ্টননামার ভিত্তিতে পৃথক খতিয়ান করা যাবে। তবে পৃথক খতিয়ান পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মালিকের অংশের বকেয়া ও বর্তমান কর পরিশোধ করতে হবে।
পৃথক খতিয়ান ছাড়া এককভাবে কর নয়
পরিপত্রে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—যৌথ খতিয়ান থেকে বণ্টননামার ভিত্তিতে নামজারি করে পৃথক খতিয়ান সৃজন না করা পর্যন্ত কোনো মালিক এককভাবে শুধু তাঁর অংশের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন না।
এ ছাড়া এ সুবিধা কার্যকর করতে অনলাইন ও অটোমেটেড ভূমিসেবা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা বা নতুন মডিউল সংযোজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩’-এর ৬(৩) ধারার বিধান উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় বলেছে, উত্তরাধিকারসূত্রে বা অন্য কোনোভাবে জমির মালিকানা একাধিক ব্যক্তির ওপর বর্তালে এবং তাঁরা জমা-খারিজ করে পৃথক নামজারি না করলে ওই ভূমি একই খতিয়ানভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ করতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যৌথ মালিকানার জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও নামজারি নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন এবং জনগণের হয়রানি কমাতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন