• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

ছদ্মবেশে দুদকের অভিযান, বিআরটিএতে ঘুষের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিপ্লব সিকদার :
ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া কার্যালয়ে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এক আনসার সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে এ অভিযান চালায়।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযানের শুরুতে কর্মকর্তারা ছদ্মবেশে প্রায় এক ঘণ্টা কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সেবাপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য বলেন, ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন সেবায় দালালদের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষের বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই দুদকের কর্মকর্তারা ছদ্মবেশে কার্যালয়ে অবস্থান করেন।
তিনি বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর একজন আনসার সদস্যকে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সদস্য ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ জন্য বিকাশের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের কথাও বলা হয়।
পরে ওই আনসার সদস্যকে বিআরটিএর উপপরিচালকের কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে তাঁর মুঠোফোন ও বিকাশ লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হয়।
প্রাথমিকভাবে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। এ ঘটনায় ওই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত সেবা নিয়ে। লাইসেন্সের আবেদন, কাগজপত্র যাচাই, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা পূরণ করেও অনেক সেবাপ্রার্থী সহজে সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পরীক্ষা গ্রহণে অনিয়ম এবং অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সেবা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাতে কাজ বিলম্বিত করা, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া এবং দ্রুত কাজ করে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।
এসব কাজে বিআরটিএ কার্যালয়ের বাইরের দালালচক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করছে দুদক।
রুট পারমিট দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে সংস্থাটি। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেবা না দিয়ে আবেদনকারীদের ফাইল আটকে রাখা হয় এবং দ্রুত অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। গাড়ির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে ফিটনেস সনদ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ত্রুটিপূর্ণ কিংবা ফিটনেসের অনুপযোগী যানবাহনকে অর্থের বিনিময়ে ছাড় দেওয়া হয় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে দুদক।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, বিআরটিএর বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে দালালদের মাধ্যমে কাজ করানোর সুযোগে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ঘটনায় কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদ প্রদানে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং ঘুষ দাবির অভিযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করেন দুদকের কর্মকর্তারা। সংগৃহীত তথ্য যাচাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন