• রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

মেঘনায় ইউনিয়ন বিএনপি নিয়ে সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হলে বাড়বে তৃণমূল বিভক্তি

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উদ্যোগ ও সহায়তায়। দীর্ঘ সময়ের বিভক্তি ও গ্রুপিং কাটিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যখন নতুন করে ঐক্যের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তখন ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির গৃহীত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করায় তৃণমূলে নতুন করে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অবসানে শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নয়, সাধারণ জনগণও স্বস্তি বোধ করেছেন। কারণ স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভক্তি সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাতেও প্রভাব ফেলেছিল। মেঘনা উপজেলা বিএনপির নতুন ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর একটি পরিচিতি ও বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই সভায় উপস্থিত নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে উপজেলার সব ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তটি রেজুলেশন আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং উপস্থিত সদস্যরা তাতে স্বাক্ষর করেছেন বলেও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিশ্চিত করেছেন।

তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরও উপজেলা বিএনপির দলীয় প্যাডে ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণেই তৃণমূল পর্যায়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশ্ন—ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিগুলো যদি বিলুপ্ত হয়ে থাকে, তাহলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হচ্ছে না কেন? আবার কমিটিগুলো বহাল থাকলে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি বিলুপ্তির কথা কেন বলা হচ্ছে? এমন দ্বৈত অবস্থানের কারণে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউনিয়ন বিএনপির পুরোনো কমিটির কিছু নেতা এখনো নিজেদের দায়িত্বশীল হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্তের কথা জানার পর অনেকে পুরোনো কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ফলে একই ইউনিয়নে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কর্তৃত্ব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান তৈরি হচ্ছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত রেজুলেশনে সীমাবদ্ধ থাকলে মাঠপর্যায়ে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর তা প্রকাশ না করা হলে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হয়। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত বলয় ও গ্রুপভিত্তিক রাজনীতি আবারও সক্রিয় হতে পারে।

দলীয় সূত্র বলছে, কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২ আসনের এমপিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় মেঘনা উপজেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত প্রকাশ না করা হলে সেই ঐক্যের পরিবেশ আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতারা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনের পর একটি ছোট সাংগঠনিক অস্পষ্টতাই নতুন বিভক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন তৃণমূল নেতা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিনের বিভক্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন নতুন করে কারা দায়িত্বে আছেন, কারা নেই—তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে আবারও কর্মীরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বেন।’

তাদের মতে, ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা দ্রুত উপজেলা বিএনপির দলীয় প্যাডে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো কীভাবে পরিচালিত হবে এবং নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া কী—সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

তৃণমূল নেতাদের আশঙ্কা, গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন করে গ্রুপিং তৈরি হতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার সুফলও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক বাস্তবতায় সবচেয়ে প্রয়োজন ঐক্য ধরে রাখা। আর ঐক্য ধরে রাখতে হলে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা নিশ্চিত করা জরুরি। ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমান ধূম্রজাল দ্রুত দূর করা না হলে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি বাড়ার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শক্তিও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনের পর অর্জিত স্বস্তি ও ঐক্যের পরিবেশ ধরে রাখতে মেঘনা উপজেলা বিএনপির গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন