• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
ত্রিশালের হারবা বিলে হাওরের স্বাদ, বিল-নদীতে দীর্ঘ নৌভ্রমণের হাতছানি মেঘনায় একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফের মাদক মামলা ইমেজ সংকট কাটিয়ে জনবান্ধব দুদক গড়ার প্রত্যয় সচিবের ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি ৫ আগস্ট; মৃত্যুর মিছিল পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হলো নগরকান্দায় ১০ টাকা নিয়ে বিরোধে ৮ বছরের শিশুকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ পুলিশ কোনো দলের বা লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির ভেতরে ফ্যাসিবাদের প্রতিচ্ছবি দেখছেন বিরোধীদলীয় নেতা এক বছরের সাজার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো রিজেন্টের সাহেদকে সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মির্জা ফখরুল

মেঘনায় একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফের মাদক মামলা

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

আল-মামুন:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে গাঁজা উদ্ধারের মামলা হওয়ার পর তাঁর অতীত অপরাধের রেকর্ডও সামনে এসেছে। পুলিশের চালান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগে ঢাকার মতিঝিল থানায়ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়েছিল, যেখানে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, আগের মামলার পরও তিনি কীভাবে আবার একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এবং মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কতটা।

আদালতে পাঠানো মেঘনা থানার চালান প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের টিটিরচর গ্রামের মধুয়ালার বাড়ির পেছনের পাকা সড়কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নাছির মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

চালান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁর দেহ তল্লাশি করে লুঙ্গির কোচ থেকে কাগজে মোড়ানো ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দতালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৯(ক) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে দাবি করেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি গাঁজা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাঁর বৈধ কোনো আয়ের উৎস নেই এবং মাদক বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

চালান প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, থানার রেকর্ড ও সিডিএমএস (CDMS) যাচাই করে নাছির মিয়ার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে ঢাকার মতিঝিল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আরেকটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দাখিল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি একজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই মামলা ও অভিযোগপত্র থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সুযোগ পেলেন? মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, কেবল অভিযানে গ্রেপ্তার করলেই হবে না; মাদক সরবরাহের উৎস, অর্থের জোগানদাতা এবং এর সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় বিচ্ছিন্ন অভিযানেও মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

এদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আসামিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়েছেন এবং তাঁর জামিনের বিরোধিতা করেছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং মাদক সরবরাহের উৎস শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম গ্রেপ্তার ও আদালতে চালান দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন