ঢাকা   ০৩:৫৮:০৫ এএম, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপির প্রার্থী দেওয়াকে স্বাগত রাশেদ খানের

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, August 9, 2026,
  • 97 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে জামায়াতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেছেন, দলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারে না।

নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কখনোই সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারে না, সেটার প্রমাণ তারা আবারও দিলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির আগে প্রার্থী ঘোষণা করে।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, কয়েকদিন আগে গণমাধ্যমে বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না—এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে পারবে না বুঝতে পেরেও কি জামায়াত-এনসিপি নির্বাচন বর্জন করেছিল?

তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়লাভের চেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাই গণতান্ত্রিক সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ। তাঁর মতে, জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ করা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

রাশেদ খানের ভাষায়, বিরোধী দল হিসেবে কার্যকরভাবে ভূমিকা পালন করতে হলে নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা না থাকলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়াগুলোতে অংশ নিতে হবে। এটিকেই তিনি সংসদীয় রাজনীতির স্বাভাবিক চর্চা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা প্রকাশ করছে।

তবে পোস্টে রাশেদ খান জোটের নেতৃত্বের প্রশ্নেও একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তিনি ধারণা প্রকাশ করেন, কর্নেল অলি আহমেদ হয়তো জামায়াত-এনসিপির কাছেও ‘বারডেন’ বা বোঝা হয়ে উঠছেন। এ কারণে তাকে কৌশলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী করে জোটের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খানের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কর্নেল অলি আহমেদের জয়ের সম্ভাবনা নেই। ফলে প্রার্থী হওয়ার পর তার জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে—এমন রাজনৈতিক হিসাব থেকেই তিনি ওই মন্তব্য করেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।

তবে কর্নেল অলি আহমেদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার পেছনে জামায়াত-এনসিপির এমন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে রাশেদ খানের এ অংশটি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী দেওয়া, জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের ভূমিকা—এসব বিষয় নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাশেদ খানের বক্তব্য সেই আলোচনাকেই আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি