ঢাকা   ০৩:০৫:০৮ পিএম, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিলা হোস্টেলে ঢুকে কলেজছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের নিপীড়ন!

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, October 22, 2019,
  • 209 Time View

২২অক্টোবর২০১৯,বিন্দুবাংলা টিভি. কম,

ডেস্ক রিপোর্ট : মাগুরায় রাতে কলেজ হোস্টেলে প্রায়শই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে মেয়েরা। দলবল সহকারে ঢুকে যাচ্ছে কারও কক্ষে। রান্না করে খাওয়াতে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের।যুগান্তর

অনেকদিন ধরেই এমন অরাজকতা চলে আসলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কলেজ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থায় নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন আবাসিক ছাত্রীরা।

মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের হোস্টেলে বসবাসরত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সোমবার সকালে কলেজ অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষের কাছে অভিযোগ জানালেও তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ছাত্রীদের অভিযোগ, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বিসহ ছাত্রলীগ পরিচয়ে বেশ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে হোস্টেলে যাওয়া আসা করছে। তাদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে কেউ কেউ। অথচ বিষয়টি জানার পরও কলেজ প্রশাসন এ বিষয়ে একেবারেই নিশ্চুপ রয়েছে।

সর্বশেষ রোববার রাতের ঘটনায় হোস্টেলের প্রায় সবাই নিরাপত্তা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন বলে তারা জানান।

হোস্টেলে বসবাসরত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী জানান, ‘রাত সাড়ে ৯টায় রাতের খাবার শেষ করে অন্য মেয়েদের সঙ্গে নিচ থেকে রুমে ফেরার সময় দেখি হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি ভাই একটি মেয়েকে খুব খারাপ অবস্থায় জড়িয়ে ধরে রেখেছে। বেশ সুন্দর দেখতে ওই মেয়েটি নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেও পারছে না। কাঁদছে কিন্তু চিৎকার করতে পারছে না।থ

তিনি বলেন, ‘একটু দূরে আরও তিন-চারজন ছেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ সময় আমি সঙ্গে থাকা অন্যদের সহযোগিতায় ওই মেয়েটিকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেও দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেগুলো আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। সিঁড়ির রেলিয়ে পড়ে গিয়ে একটি মেয়ের হাতও কেটে যায়। ওই মেয়েটির হাতের ওপর জামার একটি অংশ ছিঁড়ে যায় তখন।থ

আহত ওই মেয়েটি জানান, ঘটনার পর পুরো বিষয়টি হোস্টেলের মেট্রন (তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত) নাসরিন আপাকে জানানো হলেও তিনি আমাদের চুপ থাকার জন্য নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণ পরই হোস্টেলে পুলিশ আসে। কিন্তু নাসরিন ম্যাডামের ভয়ে কেউ তাদের কাছে কিছু জানায়নি।

এদিকে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে হোস্টেল মেট্রন নাসরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থী লাঞ্ছনার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, রোববার রাত ৮টার দিকে কলেজ ছাত্রলীগের পরিচয়ে বেশ কয়েকজন পোলাওয়ের চাল আর মুরগি নিয়ে হোস্টেলে আসে। তারা রাঁধুনি রাজিয়াকে ১৫ জনের খাবার রান্না করে দিতে বলেন। পরে রান্না শেষ হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বি ১০ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে খাবার নিতে আসলেও কিছুক্ষণ পর তারা চলে যায়।

হোস্টেলের রাঁধুনি রাজিয়া বেগম বলেন, সারা দিনে অনেক কাজ করতে হয়। তার পরও তারা রাঁন্না করে দিতে বললে তো কিছুই করার নেই। মুখ বুঝে কাজ করতে হয়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বির মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আলি হোসেন মুক্তা মেয়েদের এই অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে সুনির্দিষ্টি অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদি হাসান রুবেল।

এ বিষয়ে সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে সোমবার দুপুরে হোস্টেলের মেট্রন নাসরিন আকতার, নৈশ প্রহরি আবদুস সালাম এবং রাঁধুনি রাজিয়াকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়াও বিষয়টির তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে অধ্যক্ষ জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি