• বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনার সন্তান, কেন্দ্রে তাঁর রাজনীতি পঞ্চগড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান কর প্রশাসনে ডিজিটাল রূপান্তর বিষয়ে বিসিএস একাডেমিতে ক্লাস নষ্ট উপজেলা মেঘনা : নষ্টালজিক উন্নয়ন আর হারিয়ে যাওয়া মানুষের গল্প মেঘনায় সড়কহীন দড়িকান্দি দক্ষিণ পাড়া: পাঁচ দশকের অবহেলা বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত বিএনপি ক্ষমতায় এলে দাউদকান্দি–মেঘনা সরাসরি সংযুক্ত করা হবে : ড. খন্দকার মারুফ হোসেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নাহিদ হাসানের মাতৃবিয়োগে কুমিল্লা উত্তর জেলা নেতৃবৃন্দের শোক শোকের ভারে নত একাই দেশনায়ক তারেক রহমান বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশনের শোক

মেয়ের অ্যাসাইনমেন্টের খরচ দিতে পরনের কাপড় বিক্রি করলেন মা

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৪৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় স্কুলের অ্যাসাইনমেন্টের টাকা সংগ্রহ করতে নিজের পরনের তিনটি শাড়ি বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন মা।

বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) উপজেলার আঠারবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বছর শেষে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই বা গ্রেড নির্ণয় করার লক্ষ্যে প্রত্যেক বিদ্যালয় থেকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় উপজেলার এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিতু আক্তার গত বৃহস্পতিবার অ্যাসাইনমেন্ট আনতে গেলে টাকা চান শিক্ষকরা। মেয়ের অ্যাসাইনমেন্টের টাকার ব্যবস্থা করতে পরনের কাপর বিক্রি করেন মা।

রিতু আক্তার ওই এলাকা দিনমজুর মো. শহিদ মিয়ার মেয়ে। সে আঠারবাড়ি এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রিতু আক্তার জানায়, অ্যাসাইনমেন্ট দিতে বললে শিক্ষক আনোয়ার হোসেন তিন পাতার প্রশ্ন, দুটি কলম ও এক পাতার সাজেশন দিয়ে ৩৪০ টাকা চান। এ সময় বাবার দেয়া ১০০ টাকার একটি নোট দিলে শিক্ষক আমাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন।

৩৪০ টাকাই দিতে হবে; দিতে না পারলে অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে পারবে না বলে জানান শিক্ষক আনোয়ার। পরে কান্নাকাটি করে বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি মা বিলকিস আক্তারকে জানায় রিতু।

রিতুর মা বিলকিস বলেন, মেয়ে স্কুলে গিয়ে শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের কাছে অ্যাসাইনমেন্ট চাইলে ৩৪০ টাকা দিতে বলেন। তখন আমার মেয়ের কাছে ১০০ টাকা ছিল। কিন্তু স্যার অ্যাসাইনমেন্ট না দিয়ে ৩৪০ টাকা চান। দিতে না পারলে উপরের ক্লাসে উঠানো যাবে না বলে বের করে দেয়।

পরে মেয়ে বাড়িতে এসে অনেক কান্নাকাটি করে। তার কান্না সহ্য করতে না পেরে ঘরে থাকা তিনটি পুরোনো শাড়ি ৩০০ টাকায় বিক্রি করে টাকা দিয়েছি।

এ বিষয়ে এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, অ্যাসাইনমেন্টে টাকা লাগে না। কেন ওই শিক্ষক টাকা নিয়েছেন এজন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, কেন ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন সেজন্য তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন