সাভারে এনসিপির সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে ভারতের মদদপুষ্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দমনে সবাইকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমাবেশে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বোমা হামলার ঘটনায় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান এবং সদস্যসচিব ডা. নাবিল আহমেদ গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভারতের মাটিতে ঘাঁটি স্থাপন করে সামাজিক মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী সহিংসতার হুমকি দিয়ে আসছে। দেশেও বেসরকারি টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও টকশোতে এই সন্ত্রাসবাদের সমর্থনে জুলাই বিপ্লববিরোধী ঘৃণামূলক অপপ্রচার ও কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপির সমাবেশে বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে বোমা হামলার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার পর সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এ ধরনের নাশকতামূলক হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সন্ত্রাসবাদী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর সন্ত্রাস, বোমা হামলা বা সহিংসতাকে বিনা চ্যালেঞ্জে মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকারের সদিচ্ছা ও সামর্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তারা বলেন, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক সন্ত্রাসী, পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং মদদদাতাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভারতের মদদপুষ্ট কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ভয়-ভীতি, সন্ত্রাস ও নাশকতার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে জন্য সরকারকে সতর্কতামূলক, আগাম, কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ বিশ্বাস করে, পতিত ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসী তৎপরতাকে সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করে আইনের কার্যকর প্রয়োগ, ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।