দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক ওয়ালে সাংবাদিকতার একটি বিতর্কিত কিন্তু বহুল আলোচিত বাস্তবতা নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন।তিনি লিখেছেন, যেসব সাংবাদিক দিনে একাধিকবার একই সরকারি বা বেসরকারি অফিসে যাতায়াত করেন, কিন্তু মাসের পর মাস সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন না, তাদের কার্যক্রম সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে।
প্রথমত, ‘নিউজ সোর্সিং’ নয়, ‘রিলেশন সোর্সিং’। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকের অফিসে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য সংবাদ সংগ্রহ নয়; বরং কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস), ঠিকাদার বা প্রভাবশালীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, যাতে প্রয়োজনে সুবিধা পাওয়া যায়, বিজ্ঞাপন আসে বা অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজ সহজ হয়।
দ্বিতীয়ত, সাপ্তাহিক বা মাসিক ‘কালেকশন’। তিনি দাবি করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য জেনে তা প্রকাশ না করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান। সাংবাদিক মহলে এটিকে তিনি ‘নিউজ না করে নিউজ খাওয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয়ত, দালালি ও তদবির। তাঁর মতে, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বদলি, টেন্ডার, লাইসেন্স, ফাইল ছাড়ানোসহ বিভিন্ন তদবিরমূলক কাজে প্রভাব খাটান। এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সুবিধা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি।
মোহাম্মদ মাসুদ আরও লিখেছেন, প্রকৃত সাংবাদিকের কাজ হলো তথ্য সংগ্রহ, একাধিক সূত্রে তা যাচাই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা। তিনি বলেন, একজন সত্যিকারের অনুসন্ধানী রিপোর্টার সংবাদ প্রকাশের পর অনেক সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অপছন্দের ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। বিপরীতে যারা সংবাদ প্রকাশ না করে শুধু নিয়মিত অফিসে যাতায়াত করেন, তাদের অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করা হয়, কারণ তারা কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করেন না।
তিনি তাঁর লেখার শেষাংশে এক লাইনে মন্তব্য করেন— “নিউজ করার জন্য অফিসে যেতে হয় না, নিউজ না করার জন্য বারবার যেতে হয়।”তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সব সাংবাদিক এক রকম নন। তাঁর মতে, এখনও অনেক সাহসী ও পেশাদার সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু ‘ঘুর ঘুর’ সাংবাদিকের কারণে পুরো সাংবাদিকতা পেশার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
— মোহাম্মদ মাসুদ
সম্পাদক, দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ
(ব্যক্তিগত ফেসবুক ওয়ালে প্রকাশিত মতামতের ভিত্তিতে উপস্থাপিত)