• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
৬ বছর পর এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলার রায়, মৃত্যুদণ্ড ১, যাবজ্জীবন ৩ পাবনা জেলা পুলিশের অভিযানে ৫০০ বোতল ফেনসিডিল ও প্রাইভেটকার সহ যুবক আটক লোহাগাড়ায় বন্যাদুর্গত পরিবারের পাশে যুবদল নেতা এম. এ. মোরশেদ আলম রথযাত্রাকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গোষ্ঠীর চেয়ারপারসন ড. খন্দকার মোশাররফ মেঘনায় ঝুঁকিপূর্ণ দুই গাছে আতঙ্কে দুই পরিবারের বসবাস এইচএসসি পরীক্ষা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি: সংকট উত্তরণে আবেগের চেয়ে বিবেক ও যৌথ দায়বদ্ধতা বেশি প্রয়োজন সাতক্ষীরায় ধর্ষিতা শিশুর পাশে বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ চট্টগ্রামের বন্যার্ত মানুষের পাশে স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

৬ বছর পর এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলার রায়, মৃত্যুদণ্ড ১, যাবজ্জীবন ৩

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া:

সিলেটের বহুল আলোচিত মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আট আসামির মধ্যে চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন সাইফুর রহমান।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্কর। এছাড়া যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিন আসামিকে মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করে সেই অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বেকসুর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন আইনউদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল ইসলাম (রাজন) ও মাহফুজুর রহমান (মাসুম)।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টায় সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজ উদ্দিন। তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির পক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শত শত উৎসুক মানুষ রায় শোনার জন্য আদালতপাড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ও টিলাগড় এলাকা নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই সময় ছাত্রাবাসে সংঘটিত এই নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি দেশের অন্যতম আলোচিত ও স্পর্শকাতর মামলায় পরিণত হয়।

মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে বিচারকাজ বিলম্বিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা হলো।

সেদিন যা ঘটেছিল:

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেটকারে করে শাহপরান মাজারে বেড়াতে যান ওই নববধূ। ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে তাঁর স্বামী পাশের একটি দোকানে যান।

এ সময় ৫-৬ জন যুবক তাঁদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং নববধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।

পরে তাঁদের টাকা-পয়সা ও প্রাইভেটকার রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে এসে ভুক্তভোগীর স্বামী পুলিশকে বিষয়টি জানান।

ঘটনাটি মুহূর্তেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও এর প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় প্রথমদিকে পুলিশ ছাত্রাবাসে প্রবেশে বিলম্ব করে। ফলে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। পরে অভিযান চালিয়ে ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও অভিযুক্তদের পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তিন দিনের মধ্যেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন।

অভিযুক্ত ছিলেন যারা:

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক), অর্জুন লস্কর, আইনউদ্দিন (আইনুল) ও মিসবাউল ইসলাম (রাজন)-এর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান (মাসুম)-এর বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

অভিযুক্ত আটজনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকজনের ছাত্রত্ব ও সনদও বাতিল করে।

যেভাবে সম্পন্ন হলো বিচার:

২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র এবং ৩ ডিসেম্বর ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। পরবর্তীতে একাধিক আইনি জটিলতা, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা এবং ট্রাইব্যুনাল পরিবর্তনের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।

পরবর্তীতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী, তাঁর স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, আদালতের রায়ে যারা বেকসুর খালাস পেয়েছেন, তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন