বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং জনগণের জীবনমানের উন্নয়নই সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার।
শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (ডাইরা)’ আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মাঠপর্যায়ের রাজনীতির অভিজ্ঞতা তাকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা বুঝতে সহায়তা করেছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়ম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংকিং খাতের গতি ফিরিয়ে আনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান তিনি।
শিল্পায়ন, কৃষি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বাজেটেও বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সর্বজনীন ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে। জনগণের ঐক্য, সাহস ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে একটি উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বৈশ্বিক পরিবর্তন, অর্থনীতি, রাজনীতি, উন্নয়ন এবং নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেশি-বিদেশি গবেষক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।