কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘পায়রা ভবন’ ভাঙার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করে বিবৃতি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তার।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেওয়া সোস্যাল মিডিয়ায় বিবৃতিতে তিনি বলেন, তিনি ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট দাউদকান্দি উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে শুক্রবার ও শনিবার ঢাকায় অবস্থান করেন। ওই সময় কে বা কারা ‘পায়রা ভবন’ ভেঙে ফেলেছে, সে বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান বা সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে ইউএনও আরও বলেন, ভবনটি ভাঙা কিংবা এর ভেতরে থাকা কোনো মালামাল বিক্রির সঙ্গেও তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তেজিত জনতা ভবনটিতে অগ্নিসংযোগ করেছিল। দাউদকান্দিতে যোগদানের পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।
নাছরীন আক্তার অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে দাউদকান্দিবাসীর প্রতি গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্যতা যাচাই করে মতামত গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের ‘পায়রা ভবন’ ভাঙা এবং ভবনের মালামাল অপসারণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এই বিবৃতি দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার।