সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা প্রতিদিন-এর বিশেষ প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক) জামিন পেয়েছেন। রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, জামিন শুনানিতে সাংবাদিক শফিকের পক্ষে হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হায়দার রবিউল হোসাইন রবি, অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ এবং অ্যাডভোকেট আল মাহমুদ অংশ নেন।
এর আগে গত ২১ জুলাই শাহবাগ থানা পুলিশ সাইবার সুরক্ষা আইনের একটি মামলায় হাফিজুর রহমান শফিককে আটক করে। পরদিন ২২ জুলাই অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ঘটনাটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর মুক্তির দাবি জানায়।
২২ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের আগে আইনগত প্রক্রিয়া আরও সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করা উচিত ছিল। কোনো প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে জবাব দেওয়া বা আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজ কোনো অন্যায়ের পক্ষে নয়। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তি দাবি করেন এবং অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
একই মানববন্ধনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে একই ধরনের আইনে গ্রেপ্তার করা হতাশাজনক। তিনি মামলার ভিত্তি হওয়া প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক শফিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সঠিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের কারণে যদি মামলা, গ্রেপ্তার বা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত। অপরাধের বিচার অবশ্যই হতে হবে। তবে মিথ্যা মামলা বা হয়রানির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, এইচ এম আল-আমিন, আমিনুল ইসলাম, তাপস, রাসেল, জিয়াউর রহমান, নুরুল আবছার, আকাশ মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সাংবাদিকদের একটি অংশের মতে, একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের অধিকারের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। তাদের ভাষ্য, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ জনস্বার্থে সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তাই সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে একটি কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।