নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, চাঁদা দাবির অভিযোগ, মারধর এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই ধামইরহাট থানায় পৃথক এজাহার দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রথম পক্ষের থানায় দাখিল করা লিখিত এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১ নম্বর ধামইরহাট ইউনিয়নের চকচান্দা গ্রামের মো. হেল্লাল হোসেন (৫০)-এর সঙ্গে একই এলাকার সাফারুল ইসলামের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
ভুক্তভোগী হেল্লাল হোসেনের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময় তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং অন্যায়ভাবে টাকা দাবি করে আসছিল। সম্প্রতি চপুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চেয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ মে ২০২৬ তারিখে বিরোধপূর্ণ জমিতে আমগাছের চারা রোপণের চেষ্টা করলে হেল্লাল হোসেন তাতে বাধা দেন। এর জের ধরে পরদিন ২ মে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সফিকুল ইসলামের নির্দেশে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, বাঁশের লাঠি ও লোহার রড নিয়ে হেল্লাল হোসেনের বাড়ির সামনে এসে হামলা চালায়।
হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. বিপ্লব হোসেন, হেল্লাল হোসেন, মো. রনি ও মোছা. জহুরা বেগম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জয়পুরহাট জেলা হাসপাতাল ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর হেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে ধামইরহাট থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
অন্যদিকে, সাফারুল ইসলামও বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা এজাহার দায়ের করেছেন। ওই এজাহারে কোরবান আলী নামে এক ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কোরবান আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। আমি আমার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমার নামে যে মামলা বা অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে সাফারুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, “হেল্লাল হোসেন যে মামলা ও অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং হেল্লাল হোসেন ও তার লোকজন আমার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর ও তছনছ করেছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে।”
এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, “উভয় পক্ষের বিরোধ এবং দাখিল করা এজাহারের বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সাম্প্রতিক ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।