: ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল এবং চট্টগ্রাম মহানগরের অন্যতম ত্যাগী ও নির্যাতিত ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেছেন, “৩৫টির বেশি মামলা, বহুবার কারাবরণ ও একটি পা হারিয়েও সংগ্রাম থামেনি। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় এসেছে ৫ আগস্ট।”
এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম, হামলা, নির্যাতন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। তবুও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে বিএনপি ও এর নেতাকর্মীরা কখনো পিছু হটেননি।
সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, তিনিও এই আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে স্বৈরাচারের রোষানলের শিকার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ৩৫টিরও বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে, বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে, হামলা-নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং আন্দোলন-সংগ্রামের পথে একটি পা হারিয়েছেন। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যরাও—মা, বোনসহ স্বজনরা—নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এত কিছুর পরও তিনি রাজপথ ছাড়েননি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের এই আন্দোলনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, অনেকে গুমের শিকার হয়েছেন, হাজারো নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেছেন। তবুও বিএনপি কখনো আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ায়নি। গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।”
তিনি বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানকে সফলতার দিকে নিয়ে যায়।
সাইফুল ইসলাম সাইফ অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার ছাত্র-জনতার ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় বহু মানুষ নিহত, আহত ও নিখোঁজ হন এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেন।
৫ আগস্টের বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সকল শহীদকে স্মরণ করেন। বিশেষ করে বিএনপির কর্মী শহীদ ওয়াসিমসহ আন্দোলনে নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
শেষে তিনি বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা, গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ৫ আগস্টের বিজয়কে ধারণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”