যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও নানা আয়োজনে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬।
বুধবার (৫ আগস্ট) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বিজয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি জুলাই যোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।
তিনি আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে একটি ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী কার্যক্রম এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন ও আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় দেশে আবারও স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের উত্থানের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। তিনি শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্য ও ধৈর্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ এবং সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান এবং ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল করিম।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভিডিও প্রদর্শনী, জুলাই যোদ্ধা ও আহতদের সম্মাননা প্রদান, চিত্রাঙ্কন ও জুলাইভিত্তিক রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।