কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় নিয়মিত মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর বাদীর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ ও মামলার বাদী। অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন দাবি করেছেন, পুলিশ আসামিকে গাড়িতে তোলার আগে বাদী তাকে ঘুষি মেরেছেন।
গত মঙ্গলবার উপজেলার সেননগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেননগর বাজারের ব্যবসায়ী ও জয়নগর এলাকার বাসিন্দা মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে দড়িকান্দি গ্রামের আনিক সরকারের ২০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে মারামারির ঘটনায় মোজাফফর হোসেন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। পরে তিনি বাদী হয়ে আনিক সরকার ও তাঁর শিশুসন্তানকে আসামি করে মেঘনা থানায় নিয়মিত মামলা করেন।
মামলার পর মঙ্গলবার সেননগর বাজারে অভিযান চালায় মেঘনা থানার পুলিশের একটি দল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপপরিদর্শক (এসআই) আক্তার হোসেন। এ সময় মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আসামিপক্ষের অভিযোগ, পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে গাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাদী মোজাফফর হোসেন তাঁকে কয়েকটি ঘুষি মারেন। এ সময় আশপাশের লোকজনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. কদম আলী বলেন, তিনি আসামিকে বাদীর ঘুষি দেওয়ার ঘটনা দেখেছেন। তাঁর দাবি, পুলিশ আসামিকে নিয়ে যাওয়ার সময়ই ওই ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই আক্তার হোসেন মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আইন অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মিত মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে মারধরের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি ভিত্তিহীন।’
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিবেদকের মুঠোফোনে একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে রামনগর ছোয়ানী গ্রামের ‘জিকু’ পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, আসামির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁকে কেউ মারধর করেনি।
প্রতিবেদক পুলিশের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি ওই ব্যক্তিকে জানালে তিনি কীভাবে বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং কেন প্রতিবেদককে ফোন করেছেন—এমন প্রশ্ন করেন। এরপর ফোনদাতা এসআই আক্তার হোসেনের বরাত দেওয়ার কথা বলে প্রতিবেদকের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ।
ওই ফোন নম্বরটি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে; ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে নম্বরটি প্রকাশ করা হলো না।
একজন গ্রেপ্তার আসামিকে পুলিশ হেফাজতে আদালতে পাঠানোর আগে কোনো পক্ষের মারধরের ঘটনা ঘটে থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তৈরি করে। অপরদিকে, পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিকে সাধারণ মানুষ জিজ্ঞাসাবাদ করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।