• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

৪৯ বছরে বিএনপি

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাসস

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্ণ করে ৪৯ বছরে পা রাখছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি প্রায় পাঁচ দশক পরও বিএনপির রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক দর্শনের অন্যতম পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি দলের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর সরকারের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মূলনীতি এবং উন্নয়নের দিকনির্দেশনা হিসেবে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলটির প্রবীণ নেতাদের মতে, আত্মনির্ভরতা, জাতীয় ঐক্য, গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি, শিল্পায়ন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দর্শনকে কেন্দ্র করেই ১৯ দফা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
১৯ দফার প্রথম দফায় যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে প্রশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে আত্মনির্ভরতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়। ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
কৃষিনির্ভর দেশের কৃষি উন্নয়ন, বন্যা ও খরার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার কথাও ১৯ দফায় উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া জনগণের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
গ্রামীণ উন্নয়নকে ১৯ দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমানো, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রমিকের অধিকার, সিভিল সার্ভিস সংস্কার, ভূমি সংস্কার, বেসরকারি খাতে প্রণোদনা এবং যুবসমাজের ক্ষমতায়নের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, উন্নয়নের মূলধারায় নারীদের সম্পৃক্ততা এবং তাদের আর্থসামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সমতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দলটির নেতাদের ভাষ্য, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলালেও জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার মূল দর্শন এখনো বিএনপির নীতিগত ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিষ্ঠার প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ৪৯ বছরে পা রাখা বিএনপি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় কীভাবে প্রতিষ্ঠাতার সেই দর্শন বাস্তবায়ন করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন