আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা, তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মো. আব্দুল মতিন।
তিনি বৃহত্তর বড়কান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। পাশাপাশি মেঘনা আইডিয়াল স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রায় সাড়ে তিন দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভাওরখোলা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মডেল ও জনবান্ধব ইউনিয়নে রূপান্তরের প্রত্যাশা তাঁর। মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গঠন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রুত নাগরিকসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
নির্বাচন, নিজের রাজনৈতিক পথচলা, ভাওরখোলার সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিন্দুবাংলা টিভির সঙ্গে কথা বলেছেন মো. আব্দুল মতিন।
বিন্দুবাংলা টিভি: বিএনপির রাজনীতিতে আপনার সম্পৃক্ততার শুরুটা কীভাবে?
মো. আব্দুল মতিন: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আমার মরহুম বাবা মো. মফিজ উদ্দিন মেম্বার ছিলেন মরহুম ফজলুল হক সাহেব চেয়ারম্যানের একনিষ্ঠ সহযোগী ও বিএনপির একজন কর্মী। ১৯৯১ সালে স্বৈরশাসনের পতনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মরহুম এমকে আনোয়ার হোসেন স্যার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তখন বৃহত্তর বড়কান্দা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে বিএনপির পক্ষে মিছিল, মিটিং ও গণসংযোগ হতো।
আমি তখন দশম শ্রেণির ছাত্র। বাবার সন্তান হিসেবে সেই গণসংযোগ, মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতাম। তখনকার রাজনীতি ছিল অনেকটাই নিঃস্বার্থ। কোনো কিছুর বিনিময়ের প্রত্যাশা ছাড়াই নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।
১৯৯১ সালের সেই নির্বাচন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই। পরে কলেজে ভর্তি হয়ে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ছাত্রত্ব শেষে ১৯৯৮ সালে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হই।
পরবর্তীতে ২০০৮-০৯ সালের দিকে বৃহত্তর বড়কান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১০ সালে মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। বর্তমানে মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দলের শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্র মেনে কাজ করে যাচ্ছি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি বিষয় উপলব্ধি করেছি—দলের প্রতি নিষ্ঠা, আদর্শের প্রতি আস্থা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাই একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় শক্তি। যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
বিন্দুবাংলা টিভি: দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দায়িত্ব আপনার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে কীভাবে সমৃদ্ধ করেছে?
মো. আব্দুল মতিন: ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে ইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। দীর্ঘ সময় তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। ফলে মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেছি।
আমার বিশ্বাস, তৃণমূলকে শক্তিশালী করেই দলকে শক্তিশালী করা সম্ভব। নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য ও সহযোগিতা থাকতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করতে হবে।
বিন্দুবাংলা টিভি: ভাওরখোলা ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান কেন?
মো. আব্দুল মতিন: আমি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী। বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে মাদক আমাদের তরুণদের একটি অংশকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের কীভাবে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনা যায়, পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা যায়—এ বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে ভাবায়।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে একজন অভিজ্ঞ ও জনসম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধির প্রয়োজন। আমার প্রায় ৩৫-৩৬ বছরের জনসম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভাওরখোলা ইউনিয়নকে একটি মডেল ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদে রূপান্তর করতে চাই।
দল যদি আমার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাকে বিবেচনা করে আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমি প্রস্তুত—ইনশাআল্লাহ।
বিন্দুবাংলা টিভি: ভাওরখোলা ইউনিয়নের বর্তমান পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
মো. আব্দুল মতিন: ভাওরখোলা ইউনিয়ন মেঘনার কৃতী সন্তান মো. সফিকুল আলমের প্রতিষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম ও প্রতিটি ভোটার আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে ইউনিয়নের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার মতো ঘটনা নেই। তবে মাদকের সমস্যা রয়েছে। বিপদগ্রস্ত কিছু মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মাদক নির্মূলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।
বিন্দুবাংলা টিভি: আপনার দৃষ্টিতে ভাওরখোলা ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যাগুলো কী?
মো. আব্দুল মতিন: যোগাযোগব্যবস্থা আমাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। খিরাচ গ্রামের দুই পাশে দুটি সেতু নির্মাণ দীর্ঘদিনের দাবি। বকশিকান্দা গ্রামের রাস্তা, আলগী-চেংগাকান্দির রাস্তা এবং বড়কান্দার আলী মিয়ার বাগ থেকে ভাওরখোলা গ্রামের দিকে যাওয়া পুরোনো রাস্তারও উন্নয়ন প্রয়োজন।
এ ছাড়া ইউনিয়নের পূর্ববর্তী উপজেলা এলাকায় প্রায় ছয় একর সরকারি জমিতে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হওয়ার কথা ছিল। মন্ত্রণালয়গত জটিলতার কারণে সেটি এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আমরা চাই, ওই জায়গায় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক। এতে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।
বিন্দুবাংলা টিভি: চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনে কোন কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন?
মো. আব্দুল মতিন: জনগণ আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলে প্রথমেই বিপদগ্রস্ত তরুণ সমাজকে মাদকের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেব। তাদের পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার জন্য সামাজিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একটি হাইস্কুলসহ প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করতে চাই।
একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকসেবা দ্রুততম সময়ে দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি করব। ১২ জন ইউপি সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন ও জনসেবার কাজ পরিচালনা করব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই—ইনশাআল্লাহ।
বিন্দুবাংলা টিভি: রাস্তা-ঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?
মো. আব্দুল মতিন: রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, মসজিদ, মন্দির, স্কুলসহ ইউনিয়নের প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।
যেসব রাস্তা ও কালভার্ট এখনো উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলো জনগণের দুর্ভোগ ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে। কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিন্দুবাংলা টিভি: শিক্ষার উন্নয়নে আপনার বিশেষ পরিকল্পনা কী?
মো. আব্দুল মতিন: শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। একজন শিক্ষিত মা একটি পরিকল্পিত পরিবার ও সুশিক্ষিত সন্তান গড়ে তুলতে পারেন। তাই ভাওরখোলার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চাই।
দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়, সে জন্য সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা এবং নিজস্ব অর্থায়নে একটি শিক্ষা সহায়তা তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আমাদের লক্ষ্য হবে—ভাওরখোলার কোনো মেধাবী সন্তান যেন অর্থের অভাবে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে।
বিন্দুবাংলা টিভি: মেঘনা আইডিয়াল স্কুলের সভাপতি হিসেবে আপনার অভিজ্ঞতা চেয়ারম্যান হিসেবে কতটা কাজে আসবে?
মো. আব্দুল মতিন: আমি মেঘনা আইডিয়াল স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।
এ জন্য আমার রাজনৈতিক অভিভাবক জননেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি মহোদয়, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সম্মানিত সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন ভাই এবং মেঘনা আইডিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মো. সফিকুল আলম সফিক ভাইয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
বর্তমানে লক্ষ্য করছি, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পড়াশোনার চেয়ে মোবাইল ফোন ও অনলাইন জগতের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে পরিবারের দায়িত্বশীল নজরদারি প্রয়োজন।
শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী—এই তিন পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগেই একটি শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
বিন্দুবাংলা টিভি: মাদকমুক্ত ভাওরখোলা গড়তে আপনার পরিকল্পনা কী?
মো. আব্দুল মতিন: মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নষ্ট করে না; একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত একটি প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মাদক প্রতিরোধকে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হিসেবে দেখলে হবে না।
পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—সব পক্ষকে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই।
বিন্দুবাংলা টিভি: ভাওরখোলার বেকারত্ব দূর করতে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
মো. আব্দুল মতিন: বেকারত্বের সমস্যা শুধু ভাওরখোলা ইউনিয়নের নয়, সারা বাংলাদেশেই এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তারপরও নিজ ইউনিয়নের বেকারত্ব কমাতে আমাদের নিজস্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন কাজের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষিকাজে মানুষকে আরও উৎসাহিত করতে স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানুষকে কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই—ইনশাআল্লাহ।
বিন্দুবাংলা টিভি: কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কী করতে চান?
মো. আব্দুল মতিন: কৃষক, জেলে, কামার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, টিসিবি কার্ডসহ সরকারি সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেব।
পাশাপাশি স্বল্পসুদে ক্ষুদ্র ঋণের সুযোগ সৃষ্টি করে মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে চাই। বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে যে সুযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো যাতে প্রকৃত দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছে, সে বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখব।
বিন্দুবাংলা টিভি: বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?
মো. আব্দুল মতিন: ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম ও ওয়ার্ডে প্রকৃত বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের সঠিক তালিকা করা হবে। যোগ্য ব্যক্তিরাই যাতে সরকারি ভাতা ও ত্রাণসামগ্রী পান, তা নিশ্চিত করতে চাই।
মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সামাজিক মূল্যবোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। সমাজে বসবাসের ক্ষেত্রে কোনটি করা উচিত আর কোনটি উচিত নয়—এ বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের ব্যবস্থা করা হবে।
বিন্দুবাংলা টিভি: স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?
মো. আব্দুল মতিন: মৌলিক পাঁচটি অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়নের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব অর্থে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।
প্রয়োজনীয় সেবা, চিকিৎসা পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা যেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ সহজে পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব।
বিন্দুবাংলা টিভি: সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে আপনার অবস্থান কী?
মো. আব্দুল মতিন: এটি বর্তমান সময়ের একটি বড় সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এই অবক্ষয় রোধ করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সামাজিকভাবে বয়কটের মতো আইনসম্মত ও মানবিক সামাজিক উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে।
বিন্দুবাংলা টিভি: ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকসেবা নিয়ে আপনার বিশেষ পরিকল্পনা কী?
মো. আব্দুল মতিন: এটি বর্তমান সময়ের একটি বড় সমস্যা। ডিজিটাল যুগে শুধু অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন জনপ্রতিনিধি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের জটিল কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যপরিধি এখন অনেক বিস্তৃত ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন।
তা না হলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে গিয়ে আগের মতো এক অফিস থেকে আরেক অফিসে দৌড়াদৌড়ি করবে, সময় ও অর্থের অপচয় হবে।
আমি সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে নাগরিকসেবা প্রদানের একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যাতে মানুষ সেবা পাওয়ার পর নিজেরাই এর মূল্যায়ন করতে পারেন।
বিন্দুবাংলা টিভি: ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করবেন?
মো. আব্দুল মতিন: এটি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বারের পাশাপাশি সমাজের গণ্যমান্য ও সচেতন মানুষকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ইউনিয়ন পরিষদে এনে পরিষদের কাজের পরিধি ও চলমান প্রকল্প নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করার ব্যবস্থা করতে চাই। কোথায় কী কাজ হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে হচ্ছে—এসব বিষয়ে জনগণকে জানানো হবে।
বিন্দুবাংলা টিভি: দল-মত নির্বিশেষে সব নাগরিককে সমান সেবা দেওয়ার বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
মো. আব্দুল মতিন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রভাবের চেয়ে স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিয়ন পরিষদের সেবার ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। কে কখন কী সুবিধা পাচ্ছে, সেটি জনগণের সামনে প্রকাশিত হয়।
আমি বৈষম্যমূলক নীতি পরিহার করে ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করতে চাই। পদ্ধতিটা খুব সহজ—আমি চেয়ারম্যান, আর ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিক আমার কাছে সমান। সবাই সমহারে সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন ইনশাআল্লাহ।
বিন্দুবাংলা টিভি: নির্বাচনে অর্থের প্রভাব নিয়ে আপনার মত কী?
মো. আব্দুল মতিন: প্রতিটি নির্বাচন এলেই একটি শ্রেণির মধ্যে এক ধরনের ছটফটানি শুরু হয়। নির্বাচনে টাকা-পয়সার ছড়াছড়ি হয়, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়। আমি মনে করি, টাকা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়।
একজন জনপ্রতিনিধি যদি জনগণের সঙ্গে আস্থা ও ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন, সেটিই তাঁকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী যে ব্যয় প্রয়োজন, তা থাকবে। কিন্তু যার সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো ভূমিকা নেই, তিনি হঠাৎ বৈধ-অবৈধ অর্থ নিয়ে নির্বাচনের মাঠে এসে শুধু অর্থের জোরে জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে যাবেন—এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ইতিবাচক নয় বলে আমি মনে করি।
বিন্দুবাংলা টিভি: কেন মনে করেন আপনি ভাওরখোলা ইউনিয়নের জন্য যোগ্য প্রার্থী?
মো. আব্দুল মতিন: আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, ভাওরখোলা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম, বাড়ি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। অনেককে ব্যক্তিগতভাবে চিনি, আবার অনেকে আমাকে না চিনলেও নামের সঙ্গে পরিচিত।
কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, মানুষের কী প্রত্যাশা—এসব অনেকটাই জানার সুযোগ হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বিচরণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ভাওরখোলা ইউনিয়নকে সময়ের সঙ্গে উন্নতির সোপানে এগিয়ে নিতে সক্ষম হব—ইনশাআল্লাহ।
বিন্দুবাংলা টিভি: দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আপনার প্রত্যাশা কী?
মো. আব্দুল মতিন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতীক ও প্রার্থিতা নিয়ে রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত থাকে। আমি ২০১৬ সালে দুর্যোগপূর্ণ সময়েও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভাওরখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে প্রচার-প্রচারণা করেছি এবং সাধ্যমতো অর্থ ব্যয় করেছি।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতির মাঠে আছি। অনেকেই প্রার্থী হতে চাইবেন—এটাই স্বাভাবিক। তবে ভাওরখোলা ইউনিয়নের একজন সিনিয়র নেতৃত্বদানকারী হিসেবে আমার বিশ্বাস, মেঘনা উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা, ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততাকে মূল্যায়ন করে আমাকে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভাওরখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করবেন। দলের প্রতি আমার সেই আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।
বিন্দুবাংলা টিভি: একই পদে একাধিক প্রার্থী থাকলে আপনার অবস্থান কী হবে?
মো. আব্দুল মতিন: আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। একই পদে একাধিক প্রার্থী থাকতেই পারেন। তখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যাকে যোগ্য ও সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মনে করবে, তাকেই মনোনয়ন দেবে। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার সবসময় আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমি দল করি, তাই দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।
বিন্দুবাংলা টিভি: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে সমালোচনা বা বিরোধিতাকে কীভাবে দেখেন?
মো. আব্দুল মতিন: আমরা মানুষ। মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতার মধ্যে কখনো কখনো অন্যকে ঘায়েল করার চিন্তাও কাজ করে। আমি ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে বিরামহীনভাবে দল করে যাচ্ছি।
আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেউ যদি আমার রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, সেটি তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার। তবে আমি এতদিন যে বিএনপিকে লালন করেছি, সেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বিশ্বাসের রাজনীতিকেই গুরুত্ব দিয়েছি।
ভাওরখোলা ইউনিয়নের সব পর্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি আমার বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে। আমি কাউকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবেই দেখতে চাই।
বিন্দুবাংলা টিভি: দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ কেমন?
মো. আব্দুল মতিন: আমি যেহেতু মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে আসছি, তাই সার্বক্ষণিক ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছি। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি এবং ভবিষ্যতেও দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই।
বিন্দুবাংলা টিভি: চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ভাওরখোলা ইউনিয়নকে কীভাবে সাজাতে চান?
মো. আব্দুল মতিন: ইনশাআল্লাহ, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ভাওরখোলা ইউনিয়নকে শতভাগ জনবান্ধব ও আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
নাগরিকসেবা হবে সহজ ও হয়রানিমুক্ত। উন্নয়ন হবে প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মাদক প্রতিরোধ—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত পরিকল্পনা থাকবে।
বিন্দুবাংলা টিভি: আপনার ব্যক্তিগত কোন গুণগুলো আপনাকে জনগণের কাছে আলাদা করে তুলেছে বলে মনে করেন?
মো. আব্দুল মতিন: আপনার প্রশ্নে যে গুণগুলোর কথা উঠে এসেছে—সততা, জনসম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা ও দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ—এসব গুণ নিয়েই আমি মানুষের মাঝে পরিচিত হয়ে আছি।
যাঁরা আমার সততার বিরোধিতা করেন, তাঁরা হয়তো আমাকে সমর্থন নাও করতে পারেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিন্দুবাংলা টিভি: আগামী পাঁচ বছরে ভাওরখোলা ইউনিয়নকে কোথায় দেখতে চান?
মো. আব্দুল মতিন: আমার নিরলস নেতৃত্ব, জনগণের সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভাওরখোলা ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চাই—ইনশাআল্লাহ।
আমার স্বপ্ন এমন একটি ভাওরখোলা, যেখানে মানুষ নাগরিকসেবা পেতে হয়রানির শিকার হবে না, শিক্ষার্থীরা ভালো পরিবেশে পড়াশোনা করবে, তরুণরা মাদক থেকে দূরে থাকবে, বেকারত্ব কমবে, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে।
বিন্দুবাংলা টিভি: ইউনিয়ন পরিষদের সেবা ও উন্নয়নকাজে আপনার বিশেষ অঙ্গীকার কী?
মো. আব্দুল মতিন: পরিষদগত সব ধরনের সনদ জনগণকে হয়রানি ছাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করব। সরকারি ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।
যোগাযোগব্যবস্থাসহ উন্নয়নমূলক কাজগুলো প্রতিটি গ্রাম ও ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ও সচেতন ব্যক্তিদের অবহিত করে বাস্তবায়ন করতে চাই। জনগণকে বাদ দিয়ে কোনো উন্নয়ন নয়—জনগণকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়ন করতে চাই।
বিন্দুবাংলা টিভি: সর্বশেষ, ভাওরখোলা ইউনিয়নের ভোটারদের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কী?
মো. আব্দুল মতিন: ভাওরখোলার মানুষ আমার আপনজন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি। তাঁদের কাছে আমি কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না।
আমি শুধু বলতে চাই সুযোগ পেলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকারকে গুরুত্ব দিতে চাই।
রাজনীতি মানুষের জন্য, জনপ্রতিনিধিত্ব জনগণের আমানত এবং উন্নয়নের সুফল সবার জন্য এই নীতিতেই আমি ভাওরখোলার মানুষের পাশে থাকতে চাই।
দল আমাকে যোগ্য মনে করলে এবং জনগণ আমাকে তাঁদের সেবা করার সুযোগ দিলে, আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভাওরখোলাকে একটি মডেল, আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
ভাওরখোলার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা চাই।