মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী উপজেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনেরকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কক্ষে এবং পরে বারান্দায় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে আলী হোসেন তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুললেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমন কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, পুরোনো আসনবিন্যাসের বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি হয়েছিল; পরে উভয় পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মেঘনা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা গেছে। সভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন। তাঁর অভিযোগ, এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী তাঁকে ধমক দিয়ে সভায় কে আসতে বলেছেন, তা জানতে চান। সভা শেষে ইউএনও মৌসুমী আক্তারের কক্ষে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। আলী হোসেনের দাবি, পরে কক্ষের বাইরে বারান্দায় রমিজ উদ্দিনসহ আরও দুজন তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
তবে শারীরিক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। তাঁর ভাষ্য, সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধি হিসেবে মেজবাহ উদ্দিন বায়েজিদের বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। ইউএনও তাঁকে বক্তব্য দিতে বললেও তিনি রাজি হননি। পরে আলী হোসেন কেন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি, তা নিয়ে উচ্চস্বরে প্রশ্ন তোলেন। সভা শেষে ইউএনওর কক্ষে বসার পর আসনবিন্যাসের পুরোনো বিষয় নিয়ে আবারও উত্তেজিত হয়ে পড়েন তিনি।
রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি তাঁকে সম্মানের সঙ্গে বলেছি, আজ বক্তব্য দিতে পারেননি, তাতে সমস্যা নেই; অন্যদিন দেবেন। উত্তেজিত হওয়ার কী আছে, শান্ত হোন। কিন্তু তিনি তর্ক চালিয়ে যান। পরে ওসি সাহেবসহ আমরা ইউএনওর কক্ষ থেকে বের হয়ে আসি। বাইরে থাকা লোকজন তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।’ তাঁর দাবি, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন দীর্ঘদিন যাবত আমি রাজনীতি করি কিছু ব্যাক্তি প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আমার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবে মানহানীর উদ্যেশ্যে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার অপচেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, পুরোনো বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হলে তাঁরা উভয় পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। আলী হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তারও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাঁর কক্ষে এসে বসেন। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার একপর্যায়ে পুরোনো আসনবিন্যাস নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। তবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনের দাবি, ইউএনওর কক্ষে তর্কাতর্কি হলেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে বাইরে বারান্দায়। তাঁর ভাষ্য, রমিজ উদ্দিন লন্ডনীসহ আরও দুজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি লাঞ্ছনার শিকার হন। এ বিষয়ে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন দাবি করেন ৫৬ বছর যাবত তিনি বিএনপি করেন এবং ঘটনাটি হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তিনি বলেন আজ রোববার আমরা মানববন্ধন করবো।
অভিযোগপত্রে আলী হোসেন আরও দাবি করেন, তিনি ১ নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন । অভিযোগ পত্রের অনুলীপি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) কুমিল্লা -২ আসনের সংসদ সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমন্ত্রী সহ কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক বরাবর অনুলিপি প্রদান করেছেন।