ঢাকা   ০৫:৫৭:১৮ পিএম, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১৮টি কোচের চালান পাঠাল ভারত

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 14, 2026,
  • 2 Time View

নতুন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ‘এলএইচবি’ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম চালান পাঠিয়েছে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ। মঙ্গলবার ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড জানায়, ২০০টি কোচ সরবরাহের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম চালানে ১৮টি ব্রডগেজ কোচ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

সাত ধরনের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এই কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে (আরসিএফ) নির্মিত হচ্ছে।

রাইটস লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পাঠানো প্রথম চালানে রয়েছে ১১টি শোভন চেয়ার, তিনটি এসি, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার।

রাইটস আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের সরবরাহ করা রেল ইঞ্জিনের সংখ্যা ২৮০ টির বেশি। এ ছাড়া তারা ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ এবং ডিজেলচালিত একাধিক ইউনিটের ট্রেনসেট সরবরাহ করেছে।

ভারতের রেল কোচ কারখানা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। সে সময় ভারতের ওই কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ধরনের ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়েছিল।

এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৪ সালে রাইটসের মাধ্যমে নতুন একটি আদেশ দেয় যাতে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ তৈরি ও সরবরাহের কথা বলা হয়।

কোচগুলোতে নকশার বেশ কিছু উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তন বিশেষভাবে এলএইচবি কোচের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা এ ধরনের কোচে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে।

স্টেইনলেস স্টিলের আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্টসহ বিশেষভাবে ডিজাইন করা ‘রিক্লাইনিং সিট’ও রয়েছে নতুন এই বগিগুলোতে। এর ফলে যাত্রীরা প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের আসনটি কাত করে আরামদায়ক পজিশনে নিতে পারবেন।

এ ছাড়া যাত্রীবান্ধব নানা সুবিধাও যোগ করা হয়েছে এসব কোচে। যার মধ্যে রয়েছে— শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচে ফ্যানের ব্যবস্থা, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম, আংশিক খোলার সুবিধাযুক্ত জানালা, বেবি কেয়ার রুম এবং প্রার্থনাকক্ষ।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের বাস্তবতা বিবেচনা করে এতে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিবর্তনও আনা হয়েছে। যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড়ের সময় ছাদে ওঠার প্রবণতা মাথায় রেখে কোচের ছাদ অতিরিক্ত ওজন সহ্য করার মতো শক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাতেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। ভারতীয় রেলওয়ের প্রচলিত ৭৫০ ভোল্টের প্রথার বিপরীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা মেনে এসব কোচ ৪১৫ ভোল্ট বৈদ্যুতিক সিস্টেমে চলার উপযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি