ঢাকা   ০২:৩৫:৪৬ পিএম, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলডিসি ছাড়ে বাড়তি সময়, কৃতিত্ব দেখানোর পালা: সিপিডি

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, November 1, 2026,
  • 2 Time View
  • ৮ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছরে বৃদ্ধিকে জাতিসংঘের ‘ব্যতিক্রমী’ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।

ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের সম্মান রক্ষার্থে দেশকেও ‘ব্যতিক্রমী জাতীয় কৃতিত্ব’ বা এক্সেপশনাল পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সিপিডির কার্যালয়ে “বাংলাদেশ’স এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন : দ্য ইউএনজিএ ডিসিশন অ্যান্ড আওয়ার অবজারভেশনস” শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপনকারে সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের ওপর আস্থা রেখে যে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার সম্মান রক্ষার্থে এখন দেশকেও ‘ব্যতিক্রমী জাতীয় কৃতিত্ব’ বা এক্সেপশনাল পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।

তিনি বলেন, সেহেতু প্রধানমন্ত্রী চিঠি লিখেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে, সেহেতু প্রধানমন্ত্রী এই দায়িত্বটা নিয়েছেন, যে উনি এই তিন বছরের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু পথরেখা পার হবেন। এইটা আপনারা খেয়াল রাখবেন। এইটা যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন। এখন যদি সংস্কার আপনি না করেন, তাহলে কিন্তু আপনার কথার বরখেলাপ হবে। তাহলে কিন্তু দেশ হিসেবে আমাদের যে বিশ্বযোগ্যতা, সেইটাতে আঘাত আসবে। এইটা পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। যারা বিশ্বে আমাদের প্রতি আস্থা রেখে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিল, এর সম্মান রক্ষার্থে আমরা কি ধরনের ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ এবং সংস্কার করতে পারি, এটিই হলো এখন আজকের দিনের সবচেয়ে বড় বিষয়। এটি হলো দেখার বিষয়।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ ২০১৮, ২০২১ এবং ২০২৪ সালে এলডিসি উত্তরণের তিনটি নির্ধারিত সূচক সফলভাবে পূরণ করলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট জটিলতা ও অর্থনৈতিক চাপ জাতিসংঘের বিশেষ নজরে আসে। ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতভাবে তিন বছরের বর্ধিত সময় অনুমোদিত হয়। তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে কড়া শর্ত ও তদারকি। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) প্রতিবছর সরকারের দেওয়া বার্ষিক প্রতিবেদন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীরা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কার ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, বাংলাদেশের অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো, দেশটি নীতিগত দলিল বা প্রতিশ্রুতি তৈরিতে যতখানি দক্ষ, তা বাস্তবায়নে ঠিক ততটাই দুর্বল। চূড়ান্ত মসৃণ উত্তরণ কৌশল প্রণয়ন করতেও ২০২৫ সাল গড়িয়ে গিয়েছিল। অথচ বর্তমান বাস্তবতায় শুধু প্রতিশ্রুতি দিলে চলবে না, বরং মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান সংস্কার আনতে হবে।

যেমন, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২.৮ শতাংশ এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৯ শতাংশে-নেমে এসেছে। এই দুই খাতে বড় ধরনের সংস্কার না আনলে অর্থনীতি টেকসই হবে না। মোট রপ্তানির ৮০.৬ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে ৮৮তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে হিমশিম খাচ্ছে। এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে এতদিন যেসব বিশেষ সুবিধা (যেমন— রপ্তানি নগদ সহায়তা) পাওয়া যেত, সেগুলোর অবসান ঘটিয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বরের আগেই বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং সফল উত্তরণের জন্য সিপিডি পক্ষ থেকে কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এসটিএস বা মসৃণ উত্তরণ কৌশলের সমন্বয় কাজ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের গণ্ডি থেকে বের করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নিয়ে আসতে হবে।

জাতীয় সংসদে এই রোডম্যাপ উপস্থাপন করতে হবে এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি উন্মুক্ত ‘এসটিএস ড্যাশবোর্ড’ চালু করতে হবে। কথার বরখেলাপ এড়াতে বিশ্বমঞ্চে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে দেশের আস্থার সংকট তৈরি হবে। তাই সরকার, সংসদ, গবেষক এবং বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে মনে করে সিপিডি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি