May 21, 2024, 7:50 pm
সর্বশেষ:
উপকর কমিশনারসহ তিন জনের নামে দুদকের মামলা মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : ৭ চিকিৎসক বদলি ও দায়িত্বশীলতা অতিরিক্ত ডিআইজি শিমুলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক দুই পাসপোর্ট অফিসে দুদকের দুটি পৃথক অভিযান মেঘনা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সম্ভাবনার ‘মেঘনা’ ও জনপ্রতিনিধি নির্বিঘ্নে সবাই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন : অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদএমপি মেঘনায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় মাদ্রাসার বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত করেছে অধ্যক্ষ মেঘনায় বিএনপি থেকে বহিস্কৃত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় একাধিক নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

এক পরিবারে ৪ প্রতিবন্ধী নিয়ে চলছে দিনমজুরের সংসার

২১ জুন ২০১৯, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ময়মনসিংহ সংবাদদাতা :

 

স্ত্রী ও তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে ২০ বছর ধরে চলছে এক দিনমজুরের সংসার। ৪ প্রতিবন্ধী নিয়ে দারিদ্র্যের নিচে বসবাসকারী পরিবারটি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর গ্রামের দিনমজুর আব্দুল বারিকের স্ত্রী সফুরা খাতুন (৫০) এবং তার তিন ছেলে আবুল কালাম (৩৫), রবি ইসলাম (৩২) ও রতন মিয়া (২৬) হামাগুড়ি দিয়ে বাড়ির উঠান থেকে ঘর পর্যন্ত কোনো রকমে চলাফেরা করতে পারেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তাদের চেহারার রং কালচে বর্ণের, জীর্ণশীর্ণ ও কঙ্কালসার দেহ। ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। তাদের একজন বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। পুষ্টিজাতীয় খাবার তো দূরের কথা, তিন বেলা দুমুঠো ভাতই জোটে না পরিবারটির কপালে। স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের মতো চলাফেরা করার একান্ত ইচ্ছা থাকলেও নেই শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করতে না পারার কারণে দিন দিন তাদের দেহ নিস্তেজ ও হাড্ডিসাড় হয়ে যাচ্ছে।

কীভাবে চলছে তাদের এই দুঃসহ জীবন, তা জানাতে চাইলে ওই পরিবারের সদস্যরা বলেন, স্থানীয় এক ব্যক্তির উদ্যোগে করে দেওয়া একটি টিনের দোচালা ঘরে কোনো রকমে দিন কাটছে তাদের। একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় ওই ঘরটিতে তাদের ছোট বোন স্বামী পরিত্যক্ত আছমার এক ছেলেকে নিয়ে তারা অবস্থান করছেন। আছমা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন এবং পঙ্গুত্ব মা-ভাইদের দেখাশোনা করেন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনের ভরসা সফুরার স্বামী আব্দুল বারিক (৬২)। তিনি দিনমজুরের কাজ করেন, আবার কাজ না পেলে পঙ্গু সন্তানদের নিয়ে ভিক্ষা করে খাবার জোগান। আব্দুল বারিক জানান, তার সন্তানেরা বাল্যকালে অন্যদের মতোই ভালো ছিলেন। প্রায় ২০ বৎসর আগে মেঝো সন্তান রবি ইসলামের জ্বর হয়েছিল, তখন থেকেই ধীরে ধীরে তার শরীর রুগ্‌ণ ও পঙ্গু হয়ে যায়।

সফুরা খাতুন জানান, কবিরাজিসহ বিভিন্ন চিকিৎসা করিয়েও ভালো হয়নি। একের পর এক তার ছেলে আবু কালাম ও রতন মিয়াসহ নিজেও একইভাবে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গু হয়ে যান।

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মহসিন আহম্মদ জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া মিল্টন ও বর্তমান ইউপি সদস্য মাসুদ মিয়ার মাধ্যমে ওই পরিবারকে দুটি পঙ্গু ভাতা কার্ড করে দেওয়া হয়। দুটি পঙ্গু ভাতার কার্ডের ওপর ভর করে পরিবারটি চলছে খেয়ে না খেয়ে।

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব উদ্দিন মণ্ডল বলেন, বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। পরিবারটির জন্য কোনো সহযোগিতা করা যায় কি না তা নিয়েও চিন্তা করবেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন


ফেসবুকে আমরা