ঢাকা   ০২:২৪:১৮ পিএম, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শক্তিশালী হয়ে ২০ মে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’

Reporter Name
  • Update Time : Monday, May 18, 2020,
  • 240 Time View
  • ৮ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

১৮ মে ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্ট :

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠছে। এর মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের সূত্র মতে, আগামী ১২ ঘণ্টায় প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে সুপার সাইক্লোনে রূপ নিতে পারে এই ঝড়। আর বাংলাদেশের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি আগামী বুধবার সকাল নাগাদ বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। এখন পর্যন্ত অবস্থান ও গতিপ্রকৃতি বলছে, এটি বাংলাদেশের দিকেই আসছে এবং বিধ্বংসী ক্ষমতা নিয়ে এটি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বুধবার ভোরের দিকে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূল থেকে এখনো প্রায় এগারশ পঞ্চাশ কিলোমিটার দুরে আছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে সুন্দরবন অংশ দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টির মূল অংশ দেশের সীমানায় আঘাত করতে পারে। ঝড়ের মূল অংশ সুন্দরবন অংশে আসলেও এর প্রভাব পড়বে চারদিকেই। তবে এখনো এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। তাই নানা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।তবে সতর্কীকরণ সংকেত বাড়ানো হবে আজই।



রশিদের মতে, ঝড়টি ভারতের দীঘা থেকে বাংলাদেশের সন্দ্বীপ এলাকার মধ্য দিয়ে যাবে এবং এর মূল অংশ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের সুন্দরবন অংশে আসবে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আমফান উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে এখন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯শে মে শেষরাত থেকে ২০শে মে বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা বন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল জানান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার শেষরাত থেকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আমরা মঙ্গলবার বিকাল থেকে লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া শুরু করব।

স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করেছে জানিয়ে শাহ কামাল বলেন, গর্ভবর্তী নারী, মহিলা, প্রতিবন্ধী ও শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হবে। এরপর অন্যদের নেয়া হবে। ইফতারের পর থেকে পুরুষদের নেয়া হবে। তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হবে। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে এই ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ আসায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান ত্রাণ সচিব।

ওদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা রাজ্যকে সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে। ওড়িশার উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া, তামিলনাড়ু ও কর্নাটকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এদিকে, সোমবার বিকাল ৪টায় জরুরি বৈঠকে বসবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সোমবার সন্ধ্যা থেকে ওডিশা উপকূলে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলেদের সাগরে মাছ ধরতে না যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা এর মধ্যেই সাগরে মাছ ধরতে গেছেন তাদের দ্রুত ফিরে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, সোমবার আরও শক্তিশালী রূপ নেবে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের দিঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়া দিয়ে স্থলে আঘাত হানতে পারে এই ঝড়। ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়ার সময় উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাবে। কিছু সময়ের জন্য এর গতিবেগ ১৫৫ কিলোমিটারও হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি