ঢাকা   ০৭:৩৫:১৩ এএম, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিভাজন প্রক্রিয়া নিজেদের জন্য যেন বন্ধ না হয়

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 14, 2020,
  • 327 Time View
  • ১০ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

১৪ অক্টোবর ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, এম এইচ বিপ্লব সিকদার : কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সর্ব বৃহত ইউনিয়ন গোবিন্দপুর বিশাল জনগোষ্ঠী ও ১৯ টি গ্রামের সম্বয়ে ১৯৪৮৭ ভোটারের বসবাস। বর্তমান সদর ইউনিয়ন গোবিন্দপুর। অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে, ইউপি সুবিধা বড় হওয়ার কারনে কিছুটা হলেও ব্যাঘাত হচ্ছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও বিভিন্ন সময় যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠছেনা। এই ইউনিয়ন কে দুটি ইউনিয়নে বিভক্ত করলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক, অবকাঠামো সহ একজন চেয়ারম্যান পদ ১২ জন ইউপি সদস্য পদ সৃষ্টি হবে। যোগ্য নেতৃত্ব ও উন্নয়ন, ইউপি সেবা জনগণের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সহজ হবে । সবচেয়ে বড় কথা কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলা বর্তমানে সি গ্রেডে রয়েছে যদি ইউনিয়ন টি বিভাজন করা বর্তমান ৮ টি থেকে ৯ টি ইউনিয়ন হবে ফলে বি গ্রেড উপজেলায় উন্নীত হবে এটা বড় অর্জন ও উন্নয়ন। সব মিলিয়ে ইউনিয়ন টি বিভক্তি করা জরুরি। গত প্রায় একযুগ ধরে এর প্রক্রিয়া শুরু হলেও স্থানীয় ঐক্যমত এর অভাবে বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে এটা শুধু গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বাসী নয় সমগ্র মেঘনাবাসীই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান ভোটের হিসেব সহ যারাই নেতৃবৃন্দ আছেন এলাকার গণ্যমান্য রয়েছেন সবদিকে বিবেচনা করে উন্নয়ন ও জনগণের সেবা দেওয়া কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিন্তা করে কারো ব্যক্তিগত সুবিধা বা অসুবিধা কে চিন্তা চেতনায় প্রাধান্য না দিয়ে ইউনিয়নটি বিভক্ত করা জরুরি। যেহেতু লেখকের নিজ এলাকা ফলে বাস্তব কিছু বক্তব্য এখানে তুলে ধরছি, যেমন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন এর সেননগর বাজার এই ইউনিয়নের জন্য সদর কারন ইউপি ভবন, ইউপি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ভুমি অফিস প্রাচীন সড়ক আলিপুর টু মুক্তিনগর সড়ক বাজারের মাঝামাঝি হওয়া সহ নাগরিক সুবিধা যথেষ্ট রয়েছে। এই বাজার কে ঘিরে রয়েছে বিশেষ করে ৭, ৮, ৯ ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের একটি যোগসূত্র। ব্যবসা, স্বজন, রাজনীতি, গোষ্ঠীগত প্রভাব বিস্তার সহ ইত্যাদি ইত্যাদি ফলে এত জটিলতা। কিন্তু সব কথার উর্ধ্বে হলো ইউনিয়ন কে ভাগ করতে হবে। আমাদের যারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা বা রাজনীতির মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার চিন্তা বাসনা বিগত দিন থেকে করতেছেন বা ভবিষ্যতে করবেন জনগণের সেবা ও এলাকার উন্নয়ন কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অনেকের ভাবনাটা হয়তো এমন হতে পারে (আবার না ও হতে পারে) যে এই সেই গ্রাম গুলো থাকলে ভোটের রাজনীতিতে আমার জন্য সুবিধা বা অমুক ব্যক্তির প্রোফাইল খুব শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কষ্টসাধ্য হতে পারে আসলে যদি ইউনিয়ন ভাগ হয় এই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ও হতে পারে কেননা মানুষের চিন্তা চেতনা সেকেন্ডে পরিবর্তন হয়। বর্তমান চেয়ারম্যান মাঈনুদ্দিন মুন্সী তপন এর ফেসবুক ওয়ালে বিগত দিন এবং বর্তমান, ইউনিয়ন বিভাজন প্রক্রিয়া প্রস্তাবনা ও ব্যক্তিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন সেই গুলো হুবহু তুলে ধরা হয়েছে নিচে। খুব কাছাকাছি জায়গায় রয়েছে সিদ্ধান্ত তেমন কোন বড় সমস্যা আছে বলে মনে হয় না যদি নেতৃবৃন্দ একটু ছাড় দিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নয় বাস্তবে বসে এখনি সমাধানের সময়। মাথায় রাখতে হবে ইউনিয়ন টি ভাগ করতে হবে অন্যথায় অনেক বড় উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে ইউনিয়ন বাসী। আলোচনা করে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যমতে পৌঁছানো নেতৃবৃন্দের নৈতিক দায়িত্ব হয়ে পরেছে । যেন নিজেদের অনৈক্য বা সুবিধার কথা চিন্তা করে কোনক্রমে ইউনিয়ন টি গঠন মুলক বিভাজন না হয় সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
নিচে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাঈনুদ্দিন মুন্সী তপন এর ফেসবুক ওয়াল এর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো :
প্রিয় গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বাসি বেশ কিছু দিন যাবত ইউনিয়ন ভাগ নিয়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনা চলছে।আমি তৃতীয় বারের মতো আপনাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত গোবিন্দপুর ইউনিয়নের জনগনের প্রতিনিধিত্ব করছি।ইউনিয়ন ভাগের ব্যাপারে আপনাদের মতামতকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই ইউনিয়ন ভাগ করা হবে(যদি আপনারা চান)।আমাদের ইউনিয়নের বর্তমান ভোটার প্রায় সাড়ে উনিশ হাজার, ইউনিয়ন ভাগের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান, ভোটার ও জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে করা হয়।আমার ব্যাক্তিগত কোন চাওয়া পাওয়া নেই ইউনিয়ন ভাগের ব্যাপারে।আপনাদের অবগতির জন্য নিচে তিনটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলো একটু পেছন থেকেই তুলে ধরছি,৩নং প্রস্তাবনাটি করা হয়েছিল মেঘনা উপজেলা প্রতিষ্ঠিতা সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জনাব শফিক সাহেবের সময় যার ভোটার ব্যাবধান প্রায় এক হাজার ছয়শত ছয় জন।২য় প্রস্তাবনাটি দক্ষিণকান্দি বাসির পক্ষে বিকল্প প্রস্তাবনা ছিলো যার ভোটার ব্যাবধান প্রায় দুই হাজার একশত ছয় জন।৩য় প্রস্তাবনাটি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম সাহেবের সময়,যা বর্তমানে তৃতীয় প্রস্তাবনাটিই পুনরায় বর্তমান চেয়ারম্যান রতন শিকদার মহোদয়ের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে যার ভোটার ব্যাবধান প্রায় ৪৬জন।

ইউনিয়ন ভাগের ব্যাপারে দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সুমন সাহেব , মেঘনা সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালম সাহেব,বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইফুল্লাহ মিয়া রতন শিকদার মহোদয় সহ মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সুপারিশ ক্রমে আবেদন করা হয়েছে, এখানে ব্যাক্তিগত কারো একক চাওয়া পাওয়ার কোন সুযোগ নেই,ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষ ঐক্যমতের বৃত্তি তেই ইউনিয়ন ভাগ হবে।
আশা করি আপনাদের সকলের মতামত ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবেন,সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ বিভ্রান্ত সৃষ্টির অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকুন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি