• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পদ ছাড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ, কয়েক জেলায় পাইলট প্রকল্পের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ হলে শিল্প খাতে লোডশেডিং কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত কলেরা প্রতিরোধে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪ এলাকায় টিকাদান শুরু তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে এখন পূর্ণ মন্ত্রী দুইজন আগামীকাল বঙ্গভবনে উঠবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল কুমিল্লায় একদিনে ৩৯ মাদকবিরোধী অভিযান, ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৬৫ রিজভীর সঙ্গে ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আজ হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৩১৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২০

১৩ নভেম্বর ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

হ‌ুমায়ূন আহমেদ এমন এক সাহিত্যিক, যিনি ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র সব শাখাতেই অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।  পাঠক-দর্শককে মোহগ্রস্ত করেছেন। হ‌ুমায়ূন আহমেদের ৭৩তম জন্মদিন আজ।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্ম। ডাকনাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজ। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা গৃহিণী। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

নেত্রকোনার এই সন্তানটি একদিন হয়ে ওঠেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান জননন্দিত কথাশিল্পী, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা।  হ‌ুমায়ূন আহমেদ লিখে যেমন আলোড়ন তুলেছেন, তেমনি সৃজনশীলতার সব শাখাতেই পাঠক ও দর্শকদের নিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের এই অধ্যাপক নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, এমন ঝড় তোলার মতো উপন্যাস উপহার দিয়েছেন আমাদের। তার বইয়ের সংখ্যা তিনশ’রও বেশি।

বিজ্ঞানের ছাত্র হ‌ুমায়ূন আহমেদ প্রথম উপন্যাসেই সাড়া ফেলেন। হ‌ুমায়ূনের উপন্যাসের নাট্যরূপ ধারাবাহিকভাবে টেলিভিশনে প্রচারিত হলে সেখানেও দর্শকদের সাড়া। হ‌ুমায়ূন যখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তা দেখতেও শহর ভেঙে পড়ে। হ‌ুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত ও ঘেটুপুত্র কমলা সবগুলোই ছিল দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসা সফল।

চলচ্চিত্র বা নাটকের জন্য হুমায়ূন আহমেদ গান লিখেছেন, আবার তাতে সুরও দিয়েছেন, তা সমাদৃত হয়েছে।

‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো ’, ‘চাঁদনী পসরে কে’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’, ’এক যে ছিল সোনার কন্যা’, ‘আমার ভাঙ্গা ঘরে ভাঙ্গা বেড়া ভাঙ্গা চালার ফাঁকে’, ‘চাঁদনী পসর রাইতে যেন আমার মরণ হয়’ হ‌ুমায়ূন আহমেদের লেখা এসব গান আজো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক `একুশে পদক` লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন।

তিনি আমাদের ছেড়ে যান ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। মরণব্যাধি ক্যানসারের চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাবার পর সেখানেই তিনি মারা যান। মাত্র ৬৪ বছর বয়সেই তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। সেখান থেকে মরদেহ ঢাকায় আনার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে লাখো মানুষের অশ্রু পুষ্পতে সিক্ত হন তিনি। ২৪ জুলাই নুহাশপল্লীর লিচুতলায় চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় এই কিংবদন্তিকে।

সেদিন তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি।  হ‌ুমায়ূন আজো বেঁচে আছেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে হৃদয়ে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে কিংবদন্তি এই লেখকের জন্মদিনে এবার আনুষ্ঠানিক তেমন কোনো আয়োজন থাকছে না।  তবে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল হ‌ুমায়ূনের নির্মিত নাটক ও চলচ্চিত্র প্রচার করছে আজ। এছাড়া এদিন সকাল ১১টা ৫ মিনিটে চ্যানেল আইয়ের স্টুডিও থেকে দেখানো হবে ভার্চুয়াল ‘হুমায়ূন মেলা’। এতে পরিবেশিত হবে হুমায়ূন আহমেদের লেখা গান। আরো থাকবে নৃত্য, আবৃত্তি পাঠ, স্মৃতিচারণ ইত্যাদি।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন