আমি একটা জিন্দা লাশ।
কাটিস না রে জংলার বাঁশ,
আমার লাইগা সাড়ে তিন হাত কবর খুঁড়িস না।
আমি পিরিতের অনলে পোড়ামরার পরে
আমায় পুড়িস না।
রোজ সকালে মুখোশ পরি,
হাসিমুখে দাঁড়াই সবার ভিড়ে।
কেউ দেখে না, একলা আমি
কেমন করে মরছি ধীরে ধীরে।
বুকের ভেতর জখম চেপে
মিথ্যে সুখের নাটক করে যাই।
বাইরে আমার জৌলুস কত,
ভেতরটা যে পুড়ে কয়লা-ছাই।
যার কারণে শূন্য হলো
সাজানো এই ভালোবাসার ঘর,
সে মানুষটা অন্য বুকে
আজকে সুখে, ভীষণ রকম পর।
আমার যত স্বপ্ন ছিল,
এক নিমেষে করে দিল শেষ।
আমি এখন স্মৃতির চরে
একলা হাঁটি, হারিয়ে ছদ্মবেশ।
রক্ত-মাংসের এই শরীরে
আজকে কোনো স্পন্দন তো নেই।
আমার যত জ্যান্ত আবেগ
খুন হয়েছে চেনা মানুষটার হাতেই।
চোখের কোণে অশ্রু জমে,
পাথর হয়ে আটকে থাকে বুকে।
কীসের টানে বাঁচব বলো,
বিষের কাঁটা বিঁধে আছে মুখে?
কবর খুঁড়ো না কেউ আমার জন্য,
এনো না সাদা কাফনের কাপড়।
আমি তো রোজই মরে বাঁচি,
বেঁচে থাকাটাই এক বড় থাপ্পড়।
চিতার আগুন ছাড়াই আমি
পুড়ছি এক চরম অভিমানে।
এই জিন্দা লাশের দীর্ঘশ্বাস—
বলো, কে আর এই জগতে জানে?