মাদক মামলার আসামির বাবার দাবি, প্রতারণার শিকার; তদন্তের আশ্বাস ওসির
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় একটি মাদক মামলার আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর বাবার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, টাকা নেওয়ার পরও আসামিকে ছাড়ানো তো দূরের কথা, অভিযুক্ত যুবক এখন যোগাযোগও করছেন না। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, মেঘনা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন উপজেলার সেননগর এলাকার বাসিন্দা উদয় সাহা (২৫)। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই দুপুরে ভাওরখোলা ইউনিয়নের খিরারচক উত্তরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করার দাবি করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের মির্জানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি (৫৭) নামে আরেক ব্যক্তির বাড়ি থেকে আরও ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেঘনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা হয় এবং পরদিন দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়।এদিকে, আসামি উদয় সাহার বাবা গনেশ সাহার অভিযোগ, ছেলে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়ভাবে পরিচিত মো. আসলাম নামে এক যুবক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ছেলেকে ছেড়ে আনা সম্ভব এবং এজন্য ১২ হাজার টাকা দিতে হবে। ছেলেকে দ্রুত মুক্ত করার আশায় তিনি ওই টাকা আসলামের হাতে তুলে দেন।গনেশ সাহা অভিযোগ করেন, “টাকা নেওয়ার সময় বলা হয়েছিল ছেলেকে পুলিশ আর আদালতে পাঠাবে না। কিন্তু পরে জানতে পারি তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকে আসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি ফোন ধরছেন না।”স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে মামলা থেকে অব্যাহতি বা আসামি ছাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করে থাকেন, তবে সেটি গুরুতর প্রতারণার শামিল। এমন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বা আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আইনগত সিদ্ধান্ত হয়। এই সুযোগে কেউ যদি প্রভাব খাটানোর বা পুলিশ পরিচয়ে আসামি ছাড়িয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করে থাকেন, তবে তা শুধু প্রতারণাই নয়, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করে। তাই অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।