• বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
ফরম–‘ক’ অনুযায়ী বৃক্ষ কর্তনের অনুমতির আবেদন বাধ্যতামূলক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের টানা উত্তরাঞ্চল সফর শুরু ১১ জানুয়ারি কৃষিজমির উপরি-স্তর কাটলে জেল-জরিমানা ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক মেঘনার সন্তান, কেন্দ্রে তাঁর রাজনীতি পঞ্চগড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান কর প্রশাসনে ডিজিটাল রূপান্তর বিষয়ে বিসিএস একাডেমিতে ক্লাস নষ্ট উপজেলা মেঘনা : নষ্টালজিক উন্নয়ন আর হারিয়ে যাওয়া মানুষের গল্প মেঘনায় সড়কহীন দড়িকান্দি দক্ষিণ পাড়া: পাঁচ দশকের অবহেলা বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

“কিশোর গ্যাং নয়—গ্যাং”; রাজনৈতিক কর্মীর ছদ্মবেশে অপরাধকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ হোক এখনই

বিপ্লব সিকদার। / ১৮১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫

 

রাজনীতি একটি মহৎ কাজ মানুষকে সংগঠিত করা, উন্নয়নের পথ দেখানো, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির মাঠে এমন এক ভয়ংকর প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়েছে, যা শুধু দলকে নয়, পুরো সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সেই প্রবণতার নাম কিশোর গ্যাংকে রাজনৈতিক কর্মী বানিয়ে ফেলা।

হ্যাঁ, স্পষ্টভাবেই বলতে হবে সব কিশোর গ্যাং নয়, কিন্তু গ্যাং তো গ্যাংই। তাদেরকে রাজনীতিকর্মী সাজিয়ে দায়িত্ব দেওয়া মানে হলো আগুনে ঘি ঢালা, অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া, আর দলের ভবিষ্যৎকে নিজের হাতেই ধ্বংস করা।

 

যাদের হাতে অস্ত্র, তাদের হাতে দলীয় টি-শার্ট—এ এক ভয়ংকর খেলায় পরিণত হয়েছে রাজনীতি

একসময় রাজনৈতিক মাঠে নেতৃত্ব গড়ে উঠত নীতি, আদর্শ ও ত্যাগের ওপর। এখন সেই মাঠে ঢুকে পড়েছে প্রভাব খাটানো, ভয় দেখানো আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার নেশা। আর এই নেশা পূরণে অনেক নেতা বেছে নিয়েছেন সবচেয়ে বিপজ্জনক শর্টকাট—কিশোর গ্যাং।

যাদের হাতে গতকাল পর্যন্ত ছিল ছুরি-মাশেটি, আজ তাদের কাঁধে ঝুলছে দলের ব্যানার। যাদের কাজ ছিল মহল্লা নিয়ন্ত্রণ, তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মিটিং–মিছিলের দায়িত্ব।

এ যেন বাঘকে দুধ খাওয়ানোর মতো ভুল—যে ভুলের খেসারত দিতে হয় সমাজকে, জনগণকে, এমনকি দলকেও।

 

গ্যাং কখনোই রাজনৈতিক কর্মী হয় না; তাদের ব্যবহারে যে নেতা লাভবান হয়, দলটি হয় ধ্বংস

রাজনীতিতে ক্ষমতার মোহ অনেককেই বিপজ্জনক সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়। কিছু নেতা মনে করেন—হাতের কাছে থাকে কয়েকজন “ছাগল”, তাদের দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, পোস্টারিং, শোডাউন, এমনকি সালিশ-বাণিজ্য করানো খুব সুবিধাজনক।

কিন্তু যেটা তারা ভাবেন না—
গ্যাংকে একবার ক্ষমতার স্বাদ দিলে আর থামানো যায় না।

তারা নিজেরাই হয়ে ওঠে এলাকার দাদাগিরি।

দলের প্রকৃত কর্মীদের অপমান, মারধর, বঞ্চনার শিকার হতে হয়।

মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাইয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে।

শেষ পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্ব নিজেরাই হয়ে যান তাদের ‘বন্দী’।

গ্যাংকে রাজনীতিতে ঢোকানো মানে ক্যানসারের বীজ নিজের হাতে রোপণ করা।

 

সমাজে বার্তা যাচ্ছে অপরাধ করলে ভয় নেই, দলে নাম লিখালেই পার পাওয়া যায়

এটাই পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক। যখন জনগণ দেখে—

ছিনতাইকারী দলীয় পরিচয়ে রক্ষা পাচ্ছে,

মাদক ব্যবসায়ী রাজনীতির ব্যাজ লাগিয়ে চলছে,

কিশোর অপরাধীরা মিছিলের সামনের সারিতে,

তখন তারা বুঝে যায়—এই রাজনীতি মানুষের নয়, অপরাধীদের।

এতে ভেঙে পড়ে নৈতিকতা, ভেঙে পড়ে সামাজিক নিরাপত্তা।
আর একসময় সেই দলটিকে জনগণ আর সমর্থন দেয় না—কারণ অপরাধীকে কেউ নেতা মানে না।

 

তরুণদের রাজনীতিতে আনুন, কিন্তু গ্যাংকে নয়—এটাই হোক নেতৃত্বের নতুন প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশের রাজনীতি তরুণশক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সেই তরুণ হতে হবে শিক্ষিত, সচেতন, দায়িত্ববান গ্যাং নয়।
একজন গ্যাং সদস্যকে রাজনৈতিক কর্মী বানানোর মানে হলো –

দলকে দুর্বল করা

অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া

জনসমর্থন নষ্ট করা

ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ধ্বংস করা

রাজনীতির দায়িত্ব অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়, অপরাধ প্রবণতা থেকে তরুণদের ফিরিয়ে আনা।

যদি রাজনীতি সত্যিই মানুষের জন্য হয়—তবে অপরাধীদের সাথে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।

সময় এসেছে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার—গ্যাংয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করুন, দলকে সুস্থ ধারায় ফেরান

প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতার এখন অঙ্গীকার করা উচিত
“দলের উপকরণ, দায়িত্ব, পরিচয় কখনোই গ্যাংয়ের হাতে দেওয়া হবে না।”
এটাই হবে নেতৃত্বের প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি এবং জনগণের প্রতি সত্যিকারের সম্মান।

কারণ একটাই সত্য—
গ্যাং যতদিন রাজনীতির ছায়ায় থাকবে, ততদিন রাজনীতি কখনোই মানুষের আশ্রয়স্থল হতে পারবে না।

 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন