• শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ

কঠোর নির্বাচনী আচরণবিধি জারি করল নির্বাচন কমিশন

বিপ্লব সিকদার / ২৪৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনী আচরণবিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ও কঠোরতা এনেছে। নতুন আচরণবিধিতে প্রচার–প্রচারণা, জনসভা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে শুরু করে পোস্টার–ব্যানার ও মাইক ব্যবহারের ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতেই এসব বিধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

নতুন বিধান অনুযায়ী, এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থীদের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যানার ও ফেস্টুন নির্দিষ্ট স্থানে টাঙানোর অনুমতি থাকবে। চলাচলের পথ বা রাস্তাঘাট আটকে কোনো ধরনের সভা–সমাবেশ করা যাবে না। ফলে প্রচারণার নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি বন্ধে ইসি এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

একই সঙ্গে সব প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা এক মঞ্চে করার নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলে ইসির ব্যাখ্যা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীরা নিজের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি তথ্য ইসিকে জানিয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে ভুল তথ্য, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, বিকৃত ছবি কিংবা কোনো ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রচার করলে কঠোর জরিমানার বিধান থাকছে।
এছাড়া অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ধর্মীয় উপাসনালয়—মসজিদ, মন্দির, গির্জা—এবং সরকারি অফিস-আদালতে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। একই সঙ্গে তিনটির বেশি মাইক বা লাউড স্পিকার ব্যবহারও নিষিদ্ধ।
জনসভা করতে হলে পুলিশকে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে জানাতে হবে।

প্রতি ওয়ার্ডে কেবল একটি করে নির্বাচনী ক্যাম্প চালানোর অনুমতি থাকবে। অন্যদিকে বাস, ট্রাক বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মিছিল–শোভাযাত্রা করা যাবে না। মশাল মিছিল এবং প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহারও পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

নতুন আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রচারে একমাত্র দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করা যাবে। দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি, পোস্টার বা ভিজ্যুয়াল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে এবং অপপ্রচার-সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এবার কঠোর আচরণবিধি প্রয়োগ করা হবে। কমিশনের তদারক দল সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করবে এবং লঙ্ঘন ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন