• সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
ডিইউজের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সভা, সমবায় পুনর্গঠনের দাবি মেঘনায় অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, কিশোর আলাদা প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ নদী খননে স্বচ্ছতা জরুরি এখন টিভিতে চার সাংবাদিকের ছুটি নিয়ে প্রতিবাদ সোমবার মেঘনায় জামায়াত ও যুবলীগ নেতার আধিপত্য ও পূর্ব শত্রুতা :সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১আহত ৪ মেঘনার মাধবপুরে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার মেঘনায় ১৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের দাবি মেঘনায় বরাদ্দ বৈষম্যে বাড়ছে নীরব রাজনৈতিক সংঘাত মেঘনায় সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট চেয়ে ড. মোশাররফ হোসেনএমপির চিঠি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের

ভ্যাট–ট্যাক্স ফাঁকি ও প্রান্তিক পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি

বিপ্লব সিকদার / ৫১২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রান্তিক পর্যায়ে ভ্যাট–ট্যাক্স আদায়ের বাস্তব চিত্র উদ্বেগজনক। দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ স্থানীয় বাজার, হাট-বাজার ও মাঝারি ব্যবসা কেন্দ্রিক হলেও এই স্তরেই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ফাঁকি ঘটে। বাস্তবতা হলো—অনেক সফল ব্যবসায়ী নিয়মিত ভ্যাট–ট্যাক্স দেন না, আর এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী–কর্মকর্তা অবৈধ সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের পাওনা টাকা নিজেদের পকেটে ঢুকিয়ে নিচ্ছেন।
এটি আর বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়; বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চক্র। স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাসিক বা বার্ষিক ‘চুক্তিভিত্তিক’ টাকার বিনিময়ে আইনের চোখ বন্ধ করে দেন। ফলে ব্যবসায়ী কর ফাঁকি দিয়ে লাভবান হন, আর রাষ্ট্র বঞ্চিত হয় ন্যায্য রাজস্ব থেকে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই অবৈধ ব্যবস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকায় কর না দেওয়াই যেন একটি স্বাভাবিক ও নিরাপদ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো দুর্বল নজরদারি, জবাবদিহির অভাব এবং আইনের অসম প্রয়োগ। প্রান্তিক পর্যায়ে ভ্যাট–ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা এখনো অনেকাংশে ব্যক্তিনির্ভর ও ম্যানুয়াল। এতে স্বচ্ছতার বদলে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে, আর ক্ষুদ্র ও দুর্বল ব্যবসায়ীরা নিয়মের ভারে নুয়ে পড়ছেন। এতে ন্যায্য প্রতিযোগিতা ধ্বংস হচ্ছে এবং সৎ ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।এর পরিণতি রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের জন্যই ভয়াবহ। একদিকে উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কর ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা বাড়ছে। কর ফাঁকি ও দুর্নীতির এই চক্র অব্যাহত থাকলে টেকসই উন্নয়ন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।সমাধান অসম্ভব নয়। ভ্যাট–ট্যাক্স আদায়ে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু, নগদ লেনদেন নিরুৎসাহিত করা, স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত অডিট ও সম্পদ যাচাই, এবং দুর্নীতিতে জড়িত কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ। একই সঙ্গে কর নৈতিকতা গড়ে তোলার জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
রাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে প্রান্তিক পর্যায়ের এই ভ্যাট–ট্যাক্স দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতেই হবে। নইলে রাজস্ব ফাঁকি ও অসাধু চক্রের কাছে বারবার পরাজিত হবে রাষ্ট্র—এবং তার মূল্য দিতে হবে সাধারণ জনগণকেই।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন