• মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
যমুনায় দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দিতে দায়িত্বে অবহেলায় শাস্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তিতাসে প্রশাসনে নেতৃত্বের শূন্যতা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের বিকল্প নেই: নবজীবনের প্রকাশক-সম্পাদক নুরুন্নাহার স্থানীয় নির্বাচনেও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী করতে চায় না ইসি নয়াদিল্লিতে মিনিস্টার (প্রেস) পদে নিয়োগ পেলেন সাইদুর রহমান সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টক্সিক মানসিকতার বিস্তার: সামাজিক সম্প্রীতির নীরব সংকট

অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রেম-প্রণয়: নীরব সামাজিক বিপর্যয়ের অশনি সংকেত

বিপ্লব সিকদার / ২৬৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

সমাজ আজ এক নীরব কিন্তু ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের প্রেম, প্রণয় এবং বিয়ের প্রলোভনে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এটি কেবল ব্যক্তিগত বিচ্যুতি নয়—এটি এক গভীর সামাজিক সংকট, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিচ্ছে।কৈশোরের স্বাভাবিক আবেগ ও কৌতূহলকে পুঁজি করে গড়ে উঠছে অনিয়ন্ত্রিত সম্পর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অবাধ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পরিবারে মূল্যবোধের অবক্ষয় এই প্রবণতাকে আরও উসকে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ‘প্রেম’ নামের মোড়কে প্রতারণা, বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস, এমনকি শারীরিক শোষণের মতো ঘটনাও ঘটছে। ফলাফল—একটি কিশোরী তার শিক্ষাজীবন হারাচ্ছে, একটি কিশোর বিপথগামী হচ্ছে, আর দুটি পরিবার চরম অনিশ্চয়তা ও লজ্জার ভারে ভেঙে পড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সংকটকে আমরা এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছি না। অভিভাবকদের একটি বড় অংশ সন্তানের মানসিক জগত থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা হয় অত্যধিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছেন, নয়তো সম্পূর্ণ উদাসীন। উভয় ক্ষেত্রেই সন্তান ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকে নৈতিক শিক্ষা ও বাস্তব জীবনের দিকনির্দেশনায় ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রশ্ন হলো—দায় কার? শুধুই কি কিশোর-কিশোরীদের? না, বরং দায় আমাদের সবার। পরিবার, সমাজ, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র সবাই এই ব্যর্থতার অংশীদার। আমরা সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছি, কিন্তু সঠিক ব্যবহার শেখাচ্ছি না; আমরা আধুনিকতার কথা বলছি, কিন্তু মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে তুলছি না।এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ। প্রথমত, পরিবারকে তার দায়িত্ব নতুন করে উপলব্ধি করতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের মানসিক পরিবর্তন বোঝা এবং সময়মতো সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক নৈতিক শিক্ষা, জীবন দক্ষতা ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে বাস্তবমুখী পাঠ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং অনলাইন হয়রানি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।এখনই যদি আমরা এই সংকটকে গুরুত্ব না দিই, তাহলে আগামী প্রজন্ম একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হবে যেখানে শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিকতা সবই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন