মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দড়িকান্দি দক্ষিণ পাড়ায় একটি সড়কের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রায় এক হাজার পরিবারের বাসিন্দারা। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও আজও এই জনপদের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি ন্যূনতম চলাচলের ব্যবস্থা—যা উন্নয়নের নামে চলমান বৈষম্যের এক নির্মম চিত্র তুলে ধরে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ পাড়াটি অতিমাত্রায় ঘনবসতিপূর্ণ। পাড়ার ভেতরের চলাচলের পথ এতটাই সরু যে একজন মানুষ গৃহস্থালি সামগ্রী বা সামান্য বোঝা নিয়েও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন না। জরুরি রোগী পরিবহন তো দূরের কথা, সাধারণ চলাচলই এখানে প্রতিদিনের সংগ্রাম।
এলাকাবাসীর ভাষায়, সবচেয়ে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয় মৃত্যুর সময়। কেউ মারা গেলে লাশের খাটিয়া নিয়ে মূল সড়কে পৌঁছানো হয়ে পড়ে দুঃসহ। সংকীর্ণ পথ, কাদা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বজনদের চোখের সামনে বারবার মানবিক মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়।
অথচ আশ্চর্যের বিষয়, পাড়াটির পশ্চিম ও উত্তর দিকে সড়ক বিদ্যমান। মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ মিটার একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটতে পারত। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজর পড়েনি এই জনপদের দিকে।
দড়িকান্দি দক্ষিণ পাড়া সেননগর বাজারের একেবারে সন্নিকটে অবস্থিত। পাশেই রয়েছে সেননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি ভোটকেন্দ্র। স্থানীয় ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানকার বাসিন্দারাই নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু ভোটের দিন শেষ হলে তাদের জীবনযাত্রার কষ্ট আর কারও চোখে পড়ে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বহুবার মেম্বার, চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতাদের জানানো হয়েছে। প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তব কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বংশপরম্পরায় অবহেলা আর ভোগান্তি নিয়েই বেঁচে থাকতে হচ্ছে দক্ষিণ পাড়ার মানুষকে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—বৈষম্যহীন উন্নয়নের কথা যদি সত্যিই বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বঞ্চিত এই পাড়ার দিকে এখনই দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের আবেদন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে অন্তত একটি কাঁচা সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে দড়িকান্দি দক্ষিণ পাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটানো হোক।