• শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় আজহারুল হক শাহিনের নেতৃত্বে শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি মেঘনায় বাজার মনিটরিংএ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপি মেঘনায় শহিদ দিবসে বিএনপির শ্রদ্ধাঞ্জলি মেঘনায় টানা সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা অবনতির শঙ্কা তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবস: আনুষ্ঠানিকতা ও আবেগে ভরা প্রধানমন্ত্রীর দিন একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল, মহাসচিব সাইফুল মেঘনায় মরহুম সিরাজুল ইসলাম লন্ডনী স্মৃতি মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত মেঘনায় গোবিন্দপুর ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

মেঘনায় টানা সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা অবনতির শঙ্কা

বিপ্লব সিকদার / ১০৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা-তে গত তিন দিনে ধারাবাহিক সহিংস ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক বিরোধ, জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এসব ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ থাকলেও ঘটনাগুলোর ঘনঘটা ও সহিংসতার মাত্রা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
উপজেলার তুলাতুলি শিবনগর এলাকায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতা দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন স্ত্রীকে বাড়িতে আনার পর প্রথম স্ত্রীর আত্মীয়স্বজনদের হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও তা নিরসনে সামাজিক বা প্রশাসনিক কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা বলছেন, বহুবিবাহ বা পারিবারিক জটিলতা নতুন কিছু নয়, তবে তা যদি আইনের বাইরে গিয়ে সংঘর্ষে গড়ায়, তাহলে তা সামাজিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে।দ্বিতীয় রোজায় বড়কান্দা ইউনিয়নে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রী ও বড় মেয়েকে মারধরের অভিযোগ আরও বিস্ময় তৈরি করেছে। জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে নৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্ন তোলে। একাধিক বিয়ে ঘিরে পারিবারিক কলহ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত আচরণও সামাজিক বার্তা বহন করে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে ভাওরখোলা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে দলিল লেখক ও দৈনিক বাংলাদেশের আলো’র মেঘনা উপজেলা প্রতিনিধি আবুল কাশেমকে সমঝোতার বৈঠকে মারধরের অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত ঘরোয়া বৈঠকে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও পেশাজীবী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির নামে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকগুলো কখনো কখনো আইনবহির্ভূত শক্তির প্রদর্শনীতে পরিণত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।সবশেষে শহীদ দিবসে উপজেলা পরিষদের সিএ শাহ আলমের ওপর হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবসে এমন ঘটনা প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও প্রতিটি ঘটনার পেছনে আলাদা কারণ রয়েছে, তবু স্বল্প সময়ে একাধিক সহিংসতার ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অধিকাংশ ঘটনাই পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে উৎসারিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন এসব বিরোধ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে? স্থানীয় সামাজিক কাঠামো, সালিশি ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক তদারকির মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে ছোট বিরোধও বড় আকার ধারণ করতে পারে। গ্রামীণ সমাজে অনানুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ মীমাংসার ভূমিকা পালন করলেও তা যখন নিরপেক্ষতা হারায় বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গুজবের প্রভাব। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ঘটনার পর দ্রুত নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা উত্তেজনা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। যদিও এসব ঘটনায় সরাসরি এমন প্রমাণ মেলেনি, তবু সার্বিক প্রেক্ষাপটে এটি বিবেচনায় নেওয়ার মতো বিষয়। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত তথ্য যাচাই ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি ও দ্রুত আইনি পদক্ষেপ জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকারীরা বলছেন, অনেক সময় মামলা দায়ের বা বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যায়, ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন। এই অনিশ্চয়তা কখনো কখনো প্রতিশোধমূলক মনোভাবকে উসকে দেয়। তাই প্রতিটি ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।সচেতন মহল মনে করেন, নতুন সরকারের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সামাজিক বিরোধ নিরসনে কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি। শুধু পুলিশি তৎপরতা নয়, সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ইতিবাচক ভূমিকা পরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।মেঘনার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো হয়তো বিচ্ছিন্ন, কিন্তু এগুলো একটি বৃহত্তর প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করছে—ব্যক্তিগত বিরোধের দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেওয়া। এই প্রবণতা রোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় সাময়িক উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্থানীয়রা এখন কার্যকর পদক্ষেপ ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের অপেক্ষায়।

লেখক – বিপ্লব সিকদার, সাবেক, কাউন্সিলর, বিএফইউজে, সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, সভাপতি মেঘনা উপজেলা মডেল প্রেসক্লাব। 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন