নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি ও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত থেকে শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোর পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএম-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলা অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২১ জন মাদক কারবারি ও মাদকসেবী এবং বাকি ১৩ জন বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১৮১ গ্রাম হেরোইন এবং ২৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে থানায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের ২টি সাজা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ২ জন, ৫টি জিআর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ৫ জন এবং অন্যান্য মামলায় আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে আটক হওয়া মাদক কারবারিদের মধ্যে রয়েছে মাঝিপাড়া, সুমিলপাড়া বিহারী কলোনি, গ্যাসলাইন ও আশপাশের এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বলেন, মাদক, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, “মাদক বিক্রেতা, মাদকসেবী, চোর ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে পুলিশ সব সময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে এলাকায় মাদক ও অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে