কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও হামলায় বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এর ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও থানা পুলিশ ।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে এ পরিদর্শন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি-সমর্থিত সালাম গ্রুপ এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মনোয়ার মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে গত শনিবার প্রথমে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সোমবার তা রূপ নেয় সংঘর্ষে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে মনোয়ার মেম্বার গ্রুপের লোকজন বিএনপি কর্মী আলামিনের বসতঘর ও ডুপ্লেক্স ভবনে অগ্নিসংযোগ করে এবং আশপাশের কয়েকটি ঘরে ভাঙচুর চালায়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় আব্দুস সালামের ছেলে আল-আমিন বাদী হয়ে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা আসামিসহ প্রায় ৭০ জনের বিরুদ্ধে মেঘনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি পূর্ব শত্রুতাজনিত বিরোধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি রাজনৈতিক নাকি ব্যক্তিগত—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।ঘটনার পর বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রমিজ উদ্দিন লন্ডনী, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এম মিজানুর রহমান, আবু ইউসুফ নয়ন, মো. আনিসুর রহমান, প্রফেসর শহীদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া, যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান দ্বীপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন রতনসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।