• শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
শিশু-কিশোর গড়ার স্বপ্নে জিয়ার আদর্শের অগ্রযাত্রা মেঘনায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত মেঘনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে যুবক গ্রেপ্তার, মোবাইল জব্দ দাউদকান্দি-বাউশিয়া নদীবন্দর দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ মেঘনার অগ্নিদগ্ধ শিশু লামিয়ার পাশে ড. মারুফ, নিলেন চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব মেঘনায় বিএনপি কর্মীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ , পরিদর্শনে বিএনপির প্রতিনিধি দল মেঘনায় জুয়ার আসর থেকে ৮ জুয়াড়ি গ্রেফতার, নগদ টাকা ও তাস জব্দ মেঘনায় স্কুল শিক্ষার্থী অপহরণ : প্রেম ছিল, পালিয়েই ‘অপহরণ’ মামলা মেঘনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, , ডুপ্লেক্স বাড়িতে অগ্নিসংযোগ সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী হলেন যারা

শিশু-কিশোর গড়ার স্বপ্নে জিয়ার আদর্শের অগ্রযাত্রা

বিপ্লব সিকদার / ৫৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রশ্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশু ও কিশোরদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা। “আজকের শিশু আগামীর  রাষ্ট্রনায়ক” এই শ্লোগানটি তাই কেবল একটি কথামালা নয়; এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি, একটি আদর্শ এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে এগিয়ে এসেছে জিয়া শিশু-কিশোর মেলা—একটি সংগঠন, যা নতুন প্রজন্মকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে।বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শকে ধারণ করে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি কেবল সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি সামগ্রিক মানবিক ও নৈতিক বিকাশের প্ল্যাটফর্ম। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য।এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, বিশিষ্ট সংগঠক জাহাঙ্গীর শিকদার, দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছেন জাতির ভবিষ্যৎ সঠিকভাবে নির্মাণ করতে হলে শিশুদের মননশীলতা, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই তিনি জিয়া শিশু-কিশোর মেলা প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে এটিকে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোয় রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, প্রযুক্তির প্রসার, সামাজিক পরিবর্তন এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের মধ্যে শিশু-কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতায় জিয়া শিশু-কিশোর মেলা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনটি নব উদ্যমে যাত্রা শুরু করেছে, যেখানে নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টিম গড়ে তোলা হয়েছে। এই কমিটি দেশের প্রতিটি অঞ্চল বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরসহ সারাদেশে ধাপে ধাপে সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।একটি শিশু বা কিশোরকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কেবল বইয়ের জ্ঞান বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা, নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা। জিয়া শিশু-কিশোর মেলা এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিতে পারে, যেমন নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, সামাজিক সেবা কার্যক্রম, এবং দেশীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি। এসব উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দলগত কাজের মানসিকতা এবং দেশপ্রেম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
তবে শুধুমাত্র কর্মসূচি গ্রহণ করলেই হবে না; এগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নই হলো মূল চ্যালেঞ্জ। এজন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা, দক্ষ সংগঠক এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক ও সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতা। জিয়া শিশু-কিশোর মেলার ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংগঠনটি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সহযোগিতা সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।একটি সংগঠনকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন অত্যন্ত প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া বড় পরিসরে কাজ করা প্রায় অসম্ভব। তাই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ—রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব—সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী, তাদের জন্য এই সংগঠনে সম্পৃক্ত হওয়া একটি দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।শিশু-কিশোরদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাও এই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, এবং বিনোদনের অধিকার নিশ্চিত না হলে একটি শিশু সঠিকভাবে বিকশিত হতে পারে না। সরকার এই বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও, বেসরকারি সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা এই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। জিয়া শিশু-কিশোর মেলা এই ক্ষেত্রে একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে শিশুদের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সভা-সেমিনার বা বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাস্তবমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন গ্রাম পর্যায়ে শিক্ষাসহায়তা কার্যক্রম, দরিদ্র শিশুদের জন্য বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, কিশোরদের জন্য ক্যারিয়ার গাইডলাইন, এবং সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি। এসব উদ্যোগ সরাসরি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলবে এবং সংগঠনের প্রতি আস্থা তৈরি করবে।
জাহাঙ্গীর শিকদারের নেতৃত্বে জিয়া শিশু-কিশোর মেলা যে পথচলা শুরু করেছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দূরদর্শী চিন্তাভাবনা সংগঠনটিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। তবে এই পথচলাকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনা।আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে হলে আজকের শিশু-কিশোরদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে—এই সত্যটি অনস্বীকার্য। জিয়া শিশু-কিশোর মেলা সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে একটি আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূচনা করেছে। এটি যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয় এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তবে নিঃসন্দেহে এটি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

লেখক – সাংবাদিক। সহ – গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক, জিয়া শিশু কিশোর মেলা কেন্দ্রীয় কমিটি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন