• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
উপাসনালয়ে রাজনীতি: তৃণমূলের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা মেঘনায় মিশ্র নীতির রাজনীতিতে বদলাচ্ছে সমীকরণ “লাথি মেরে চেয়ার থেকে নামাবো ” স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ইঙ্গিত করে ছাত্রঅধিকার নেতার ক্ষোভ প্রকাশ বেগ-আবেগ-যতির ভারসাম্যহীনতায় বদলে যাচ্ছে সমাজ সুযোগ-সুবিধার সংকট, নজরদারির অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ে ঝুঁকির মুখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম লুটের চরে দৃষ্টিনন্দন বাংলো বাড়ি, আলোচনায় সাবেক চেয়ারম্যান জিল্লু সরকার জিয়ার আদর্শে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান: ড.খন্দকার মারুফ হোসেন মেঘনায় ভাটেরচর-লুটের চর সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক মূল্য তালিকা না থাকায় দুই মিষ্টির দোকানকে জরিমানা ভুয়া ডাক্তার চক্রে জিম্মি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

উপাসনালয়ে রাজনীতি: তৃণমূলের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা

বিপ্লব সিকদার / ২৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

গ্রামের মসজিদ, মন্দির, গির্জা কিংবা অন্যান্য উপাসনালয় ঐতিহ্যগতভাবে মানুষের আধ্যাত্মিক চর্চা, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উপাসনালয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, দলীয় বিভাজন এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ক্রমশ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এর ফলে শুধু ধর্মীয় পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে পড়ছে।
উপাসনালয় সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত আবেগের জায়গা। ফলে সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় প্রচারণা বা পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থান তৈরি হলে তা দ্রুত সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে। একটি গ্রামে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মানুষ সাধারণত সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে একত্রিত হয়। কিন্তু উপাসনালয় যখন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে পরিণত হয়, তখন সেই ঐক্যের জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়ে।অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপাসনালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়। কোন দল বা গোষ্ঠীর লোক কমিটিতে থাকবে, কে সভাপতি বা সম্পাদক হবে—এসব নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। কখনও কখনও এ বিরোধ সংঘর্ষ, মামলা-মোকদ্দমা এমনকি সহিংসতায়ও রূপ নেয়। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তখন এমন একটি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যা মূলত ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির মাধ্যমে সমাধান হওয়ার কথা ছিল।তৃণমূলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামাজিক ঐক্য। যখন উপাসনালয় রাজনৈতিক বিভাজনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তখন সমাজের মানুষও বিভিন্ন শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় নির্বাচন, সামাজিক সালিশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। সামান্য ঘটনা থেকেও বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে গুজব ও উসকানিমূলক বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এসব বিষয় মুহূর্তেই বৃহত্তর সংঘাতের কারণ হতে পারে। ফলে প্রশাসনের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তবে এ বাস্তবতায় রাজনৈতিক সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে, নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হতে পারে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু দলীয় স্বার্থে ধর্মীয় মঞ্চ ব্যবহার করা সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
উপাসনালয়কে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে রাখতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিচালনা কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রচারণার স্থান হিসেবে ব্যবহার না করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।একটি সমাজের নৈতিক শক্তি তার উপাসনালয় থেকে বিকশিত হয়। সেই স্থান যদি বিভক্তির পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেয়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহজ হয়, সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় হয় এবং উন্নয়নের পথও মসৃণ হয়। তাই উপাসনালয়কে রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র নয়, বরং সামাজিক শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধের অভিন্ন আশ্রয়স্থল হিসেবে রক্ষা করা সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন