আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ, দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নের বিস্তারিত সময়সূচি নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন সহায়তা-৩ শাখা থেকে জারি করা এক পত্রে দেশের সব সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পত্রে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ এবং এর সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তারিখের কমপক্ষে ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা সংরক্ষণ ও চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করতে হবে।
এ লক্ষ্যে আগামী ১০ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ওই তালিকার ওপর দাবি ও আপত্তি গ্রহণ করা হবে। প্রাপ্ত দাবি-আপত্তি ২৩ আগস্টের মধ্যে নিষ্পত্তি করে ২৭ আগস্ট সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটার এলাকার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং নীতিমালা অনুযায়ী সব দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা নির্বাচন সহায়তা-৩ শাখায় পাঠাতে হবে। পাশাপাশি তফসিল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে তালিকার হার্ড কপি ও সফট কপি কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নতুন অস্থায়ী ভোটকক্ষ স্থাপনের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের অভ্যন্তরে স্থায়ী ভোটকক্ষ স্থাপন করা সম্ভব হলে অস্থায়ী ভোটকক্ষের প্রস্তাব পরিহার করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের এ নির্দেশনার অনুলিপি দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে আয়োজন করা সহজ হবে।