নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ১৪ এপ্রিল রাতে বিশেষ অভিযানে নজিপুর পৌরসভার সর্দারপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ভিকটিমকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, চক্রটি সর্দারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। ফেসবুক পেজ ও ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে তারা ভিকটিমদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করত। পরে তাদের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে মারধর করে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করত। এরপর সেসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমদের কাছ থেকে টাকা আদায় করত।
এ সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) এবং পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ২ জন নারী ও ২ জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—
১. মাহফুজুর রহমান বাঁধন (২৬), পিতা: মৃত আল হেলাল, মাতা: মোছা. মমতা বেগম, সাং- পুইয়া, থানা- পত্নীতলা, জেলা- নওগাঁ।
২. মো. মমিনুর ইসলাম (২২), পিতা: মৃত কামরুজ্জামান, মাতা: মোছা. মর্জিনা বেগম, সাং- শিবপুর সরদারপাড়া, থানা- পত্নীতলা, জেলা- নওগাঁ।
৩. মোছা. রুমা খাতুন (২০), পিতা: মৃত খোরশেদ আলম, মাতা: মোছা. মেরিনা বেগম, স্বামী: মো. শান্ত, সাং- হালাট্টী, থানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
৪. মোছা. সাদিয়া আক্তার মায়া (১৯), পিতা: মৃত মামুনুর রশিদ, মাতা: আমেনা আক্তার সিমু, স্বামী: মারুফ হাসান মুন্না, সাং- সুতরইল, থানা- পোরশা, জেলা- নওগাঁ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এ ধরনের অপরাধ করে আসছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, সে বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তিনি এ ধরনের হানিট্র্যাপের ফাঁদ থেকে তরুণদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।