• শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
সৌর বিদ্যুৎ প্রসারে টেকসই নীতি জরুরি শিশু-কিশোর গড়ার স্বপ্নে জিয়ার আদর্শের অগ্রযাত্রা মেঘনায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত মেঘনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে যুবক গ্রেপ্তার, মোবাইল জব্দ দাউদকান্দি-বাউশিয়া নদীবন্দর দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ মেঘনার অগ্নিদগ্ধ শিশু লামিয়ার পাশে ড. মারুফ, নিলেন চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব মেঘনায় বিএনপি কর্মীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ , পরিদর্শনে বিএনপির প্রতিনিধি দল মেঘনায় জুয়ার আসর থেকে ৮ জুয়াড়ি গ্রেফতার, নগদ টাকা ও তাস জব্দ মেঘনায় স্কুল শিক্ষার্থী অপহরণ : প্রেম ছিল, পালিয়েই ‘অপহরণ’ মামলা মেঘনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, , ডুপ্লেক্স বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

সৌর বিদ্যুৎ প্রসারে টেকসই নীতি জরুরি

বিপ্লব সিকদার / ৫০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা, অন্যদিকে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অর্থনীতি ও পরিবেশ উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌর বিদ্যুৎ শুধু বিকল্প নয়, বরং একটি কৌশলগত প্রয়োজন। সৌর শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে সৌর শক্তির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বছরে প্রায় ৩০০ দিনের বেশি সূর্যালোক পাওয়ায় এখানে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।  এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে দেশে ৬০ লক্ষেরও বেশি সৌর হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে, যা গ্রামীণ বিদ্যুতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।  এমনকি বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সৌর বিদ্যুৎ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পেয়েছে।
তবে এই অর্জন সত্ত্বেও বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌর শক্তির অবদান এখনও খুবই কম। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এটি মাত্র কয়েক শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে সৌর শক্তিকে জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আনতে হলে পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রথমত, সৌর বিদ্যুৎ সহজলভ্য করতে হলে খরচ কমানো জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশের সৌর প্রযুক্তির বেশিরভাগ উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার ফলে খরচ বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি ১ কিলোওয়াট সৌর সিস্টেম স্থাপনে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এই উচ্চ ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় বাধা। তাই স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো, কর ছাড় এবং সহজ ঋণ সুবিধা চালু করা অত্যন্ত জরুরি।

দ্বিতীয়ত, সৌর বিদ্যুতের আধুনিকায়ন অপরিহার্য। বর্তমানে শুধু অফ-গ্রিড সিস্টেম নয়, অন-গ্রিড ও হাইব্রিড সিস্টেমের প্রসার প্রয়োজন। আধুনিক নেট-মিটারিং ব্যবস্থা চালু করে গ্রাহকদের উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগ দিলে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এতে ব্যক্তি পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়বে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংকট কমবে।তৃতীয়ত, সরকারি নীতিমালার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে সরকার স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে সরকারি-বেসরকারি সব ভবনে বাধ্যতামূলক সৌর স্থাপন নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে। একইসঙ্গে, শিল্পখাতে সৌর শক্তির ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে।

চতুর্থত, প্রযুক্তিগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে সৌর সিস্টেম দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং ব্যবহারকারীরা নিরুৎসাহিত হন। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক মান নিশ্চিত না হলে সৌর বিদ্যুতের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায় না। তাই মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি গ্রহণ করতে হবে।

পঞ্চমত, সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। অনেক মানুষ এখনও সৌর বিদ্যুতের সুবিধা, খরচ ও দীর্ঘমেয়াদি লাভ সম্পর্কে অবগত নন। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, সৌর সিস্টেম সাধারণত ৪-৭ বছরের মধ্যে বিনিয়োগের খরচ তুলে দেয় এবং দীর্ঘদিন কম খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।  এই তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

ষষ্ঠত, বড় আকারের সৌর প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে জমির স্বল্পতার কারণে বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন কঠিন। তাই নদীভিত্তিক ভাসমান সৌর প্রকল্প, চরাঞ্চল ও অনাবাদি জমি ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।সপ্তমত, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক উদ্যোক্তা উচ্চ খরচ ও জটিল নীতিমালার কারণে সৌর খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। সহজ ঋণ, কর ছাড় এবং দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করলে এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

অষ্টমত, সৌর শক্তিকে শিল্প ও কৃষি খাতে আরও বিস্তৃত করতে হবে। কৃষিতে সেচ পাম্প, শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সৌর শক্তি ব্যবহার বাড়ালে এটি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

লেখক, সাংবাদিক।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন