বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল দিকভ্রান্ত জাতির জন্য সময়োপযোগী ও সঠিক দিকনির্দেশনা। তার এই ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধকে আরও বেগবান করেছিল।

শনিবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মারুফ হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সেক্টর কমান্ডারই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তার নেতৃত্ব ও অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কৃষি উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন দ্বার উন্মোচন করেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে দেশকে বের করে এনে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বও তার।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন এবং দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
মেঘনা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব এম.এম. মিজানুর রহমান। এতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দ, আহ্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।বক্তারা নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থেকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার আহ্বান জানান।