কুমিল্লার দাউদকান্দি-বাউশিয়া নদীবন্দর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, কারিগরি সম্ভাব্যতা ও আর্থিক দিক পর্যালোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বিআইডব্লিউটিএর জারি করা দপ্তর আদেশে বলা হয়েছে, দাউদকান্দি-বাউশিয়া নদীবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্ধারণ, সম্ভাব্য ব্যয়, রাজস্ব আয়, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান সুবিধাসমূহ মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (বন্দর ও অপারেশন)-কে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিচালক (পরিকল্পনা), অতিরিক্ত পরিচালক (নৌপথ), অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ) এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ঢাকা সার্কেল।
দপ্তর আদেশ অনুযায়ী, কমিটি সরেজমিনে দাউদকান্দি-বাউশিয়া নদীবন্দর এলাকা পরিদর্শন করবে। পাশাপাশি নদীবন্দর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রস্তাব, সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রাক্কলন, বিস্তারিত সাইট প্ল্যান, ইজারা-সংক্রান্ত তথ্য, বর্তমান ও সম্ভাব্য রাজস্ব আয় এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা নিয়ে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে।
এছাড়া কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দাউদকান্দি-বাউশিয়া নৌপথ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌযোগাযোগ কেন্দ্র। এখানে আধুনিক নদীবন্দর স্থাপিত হলে কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং আশপাশের জেলার যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুত প্রকল্পটির কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে দাউদকান্দি-বাউশিয়া নদীবন্দর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দেশের নৌপরিবহন খাতে নতুন গতি সঞ্চার হওয়ার পাশাপাশি কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।