গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট রামমন্দির নির্মানের প্রতিষ্ঠাতা আলোচিত প্রতারক হরিদাস চন্দ্র তরনীকে গ্রেফতার করায় আইনশৃংখলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানানো সহ দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সচেতন নাগরিক ফোরাম।
আজ (১৩ জুলাই) সোমবার বিকেলে শহরের বড় মসজিদ সংলগ্ন অফিস কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সচেতন নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির আহবায়ক, মুফতি মাহমুদুল কাসেমী।
তিনি বলেন, পলাশবাড়ীতে কথিত রামমুর্তি নির্মানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি। আমাদের দাবিগুলোর একটি ছিল ধর্মকে পুজি করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনে জড়িত প্রতারক হরিদাস চন্দ্র তরুনী কে গ্রেফতার করা এবং কথিত রামমুর্তি অপসারন করা। আমাদের আন্দোলনের মুখে দেশ ও জাতির বৃহত্তম স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গতরাতে পলাশবাড়ী থেকে প্রতারক ও অর্থ পাঁচারকারী হরিদাস চন্দ্র তরুনীকে গ্রেফতার করে।
আমাদের আংশিক দাবি পুরন হওয়ায় গাইবান্ধা সচেতন নাগরিক ফোরাম ও জেলার সর্বস্তরের জনগনের পক্ষ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, হরিদাস চন্দ্র তরুনী গ্রেফতার হলেও ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। এই ষড়যন্ত্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে আমরা সরকারের কাছে ৩ দফা দাবি জানাচ্ছি।
দাবিগুলো হল, ধর্মের আড়ালে এবং উসকানিমুলক উদ্দেশ্য মন্দিরের বাহিরে রাম মুর্তিসহ খোলা আকাশের নিচে স্থাপিত সকল মুর্তি দ্রুত অপসারণ করতে হবে, হরিদাসের ব্যাংক হিসেবে যে কোটি কোটি টাকার যে সন্দেহজনক ভাবে লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে তা গভীর ভাবে তদন্ত করতে হবে, হরিদাসসহ সকল সহযোগীদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় যতদিন পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্যরামচন্দ্রপুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির এলাকা থেকে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরুনী কে গ্রেফতার করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,সচেতন নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব, প্রভাষক মাওলানা আব্দুল মাজেদ, হাফেজ মো. আবুল বাসার, সহকারী অধ্যাপক জহুরুল হক সরকার, মুফতি ইদ্রিস আলীসহ