• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
তালামীয বিশ্বনাথ দক্ষিণ শাখার নতুন সভাপতি নূরুল, সম্পাদক নাজিম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও গান পাউডার উদ্ধার ভারতের মদদপুষ্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দমনে কঠোর হোন: জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান, নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক যাত্রীছাউনি মিশরকে সামনে রেখেই কিংবদন্তি হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু মেসির অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার আহ্বান, ডিমলায় পুলিশ-জনতার মতবিনিময় সভা কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন উখিয়ায় ড্রামভর্তি ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার সাতক্ষীরার ফিংড়ি এতিমখানার পানি নিষ্কাশনের সরকারি কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

এ.এস.এম. হামিদ হাসান:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ জালালপুর-লোহাজুরী সড়কটি এখন যেন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা এই সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত দুই লাখ মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় খানাখন্দ, যা জমে থাকা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব অদৃশ্য গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। উল্টে যাচ্ছে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিন্নাবাইদ, চরমান্দালিয়া, গোহালবাড়িয়া ও পাইকান এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু বছরের পর বছর সড়কটির কোনো স্থায়ী সংস্কার করা হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে-মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ভাঙা ইট ফেলে জোড়াতালির ‘দায়সারা’ মেরামত করা হলেও তা কোনো কাজেই আসেনি। বরং ইটগুলো ঠিকমতো রোলিং না করায় এবং অল্প দিনেই সেগুলো সরে যাওয়ায় রাস্তাটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী প্রতিদিন এই সড়কটি ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি এখন বিশেষ করে বয়স্ক, গুরুতর অসুস্থ এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ভাঙাচোরা ও ঝাঁকুনিপূর্ণ এই রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় প্রসূতি মায়েরা মাঝপথেই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।

সড়কের এই কঙ্কালসার অবস্থার কারণে এই রুটে গণপরিবহন চলাচল অর্ধেকের চেয়েও কমে গেছে। লোহাজুরী রুটের অটোরিকশাচালক জামাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন,

“রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে সপ্তাহে অন্তত দুইবার গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে মেরামত করতে হয়। চাকা নষ্ট হয়, বডি ভেঙে যায়। বাধ্য হয়ে একটু বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা রাগ করেন। সব মিলিয়ে আমরা চালকেরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছি।”

পরিবহনসংকটের এই সুযোগে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী বাড়তি ভাড়া দিতে না পেরে কাদা-পানি মাড়িয়ে পায়ে হেঁটেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

কটিয়াদী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজির বাজারটি এই সড়কের পাশেই অবস্থিত। এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহনের মূল ধমনীও এটি। অথচ রাস্তার বেহাল দশার কারণে বাজারে সময়মতো সবজি আনা যাচ্ছে না। কাদা আর জমে থাকা পানির কারণে ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় বড় পাইকাররা এখন আর এই সড়ক দিয়ে আসতে চাচ্ছেন না। ফলে একদিকে যেমন সবজি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পাইকার না থাকায় কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অর্থনৈতিকভাবে ধস নামছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।

উপজেলা সদরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, চিকিৎসাসেবা এবং প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটির কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত এই সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পথচারীরা আর কোনো ‘জোড়াতালির সংস্কার’ চান না। তাঁরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সড়কটির স্থায়ী ও দ্রুত কার্পেটিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন